৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল ২০২৬ : উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের ব্যবধানে চরম বৈষম্য, ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মচারীরা

সরকারি চাকরিতে বহুল প্রতীক্ষিত প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল ২০২৬-এর গ্রেড-ভিত্তিক বেতনের ব্যবধানের একটি চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উচ্চতর গ্রেড এবং নিম্নতর গ্রেডগুলোর মধ্যে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতিজনিত বেতনের পার্থক্যে এক বিশাল বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ—ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা চরম শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হতে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বৈষম্যের মূল চিত্র: উচ্চ স্তরে লাখ টাকা, নিম্ন স্তরে মাত্র ৩০০!

প্রকাশিত তথ্য ও ইনফোগ্রাফিক বিশ্লেষণ করলে গ্রেড পরিবর্তনের আর্থিক প্রভাবে আকাশ-পাতাল তফাত চোখে পড়ে। পুরো পে-স্কেলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করলে এই বৈষম্যের ভয়াবহ রূপটি স্পষ্ট হয়:

১. উচ্চ স্তরের বিশাল ব্যবধান (গ্রেড ১ থেকে ১০):

  • সর্বোচ্চ ব্যবধান গ্রেড ১ ও ২-এর মধ্যে: গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ২-এ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বেতনের ব্যবধান রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৮,০০০ টাকা। এটি পুরো পে-স্কেলের মধ্যে একক সর্বোচ্চ ব্যবধান।

  • প্রথম তিনটি গ্রেডের ব্যবধান: প্রথম তিনটি গ্রেডেই (G1-G2 এবং G2-G3) মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৭,০০০ টাকা। অর্থাৎ ওপরের দিকের মাত্র ৩টি ধাপেই বেতন জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

  • এছাড়া অন্যান্য উচ্চতর গ্রেড যেমন G4-G5 (১৪,০০০ টাকা), G5-G6 (১৫,০০০ টাকা) এবং G9-G10 (১৩,১০০ টাকা) স্তরেও ব্যবধান যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

২. নিম্ন স্তরের অতি সামান্য পার্থক্য (গ্রেড ১১ থেকে ২০):

  • গ্রেড ১২ ও ১৩-এর তামাশা: নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পরিবর্তনের আর্থিক প্রভাব অত্যন্ত নগণ্য। যেমন, গ্রেড ১২ এবং ১৩-এর মধ্যে বেতনের পার্থক্য মাত্র ৩০০ টাকা! যা বর্তমান বাজারের মূল্যস্ফীতির যুগে একপ্রকার প্রহসন বলে মনে করছেন কর্মচারীরা।

  • নিচের ৯টি গ্রেডের মোট ব্যবধান: গ্রেড ১২ থেকে শুরু করে ২০ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত—এই নিচের ৯টি গ্রেডের সর্বমোট ব্যবধান মাত্র ৪,৩০০ টাকা

  • তুলনামূলক চিত্র: যেখানে ওপরের স্তরের মাত্র একটি ধাপের ব্যবধানই ২৮,০০০ টাকা, সেখানে নিচের ৯টি গ্রেড মিলিয়েও তার চারভাগের একভাগ (৪,৩০০ টাকা) ব্যবধান তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া: “বঞ্চনার ইতিহাস এবারও বদলালো না”

এই খসড়া বা প্রস্তাবিত রূপরেখাটি সামনে আসার পর তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাথমিক শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী আক্ষেপ করে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, সবসময় শুধু সাধারণ কর্মচারীরাই শোষিত আর বঞ্চিত হয়। মুখে বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলা হলেও, পে-স্কেলের এই খসড়া প্রমাণ করে এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। ওপরের পদের কর্মকর্তারা সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আর নিচের দিকের মানুষগুলো বাজারের আগুনে পুড়ে মরবে। এরকমটা হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।”

বিশ্লেষকদের মতামত ও করণীয়

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পে-স্কেলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং বাজারের সাথে সংগতি রেখে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু প্রস্তাবিত স্কেলের এই চিত্র বজায় থাকলে ধনী ও দরিদ্র কর্মচারীদের মধ্যকার বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

সাধারণ কর্মচারীদের দাবি, এই বৈষম্যমূলক প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর (১১-২০) ব্যবধান সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা হোক। অন্যথায়, প্রজাতন্ত্রের চালিকাশক্তি এই বিশাল কর্মচারী গোষ্ঠীর মধ্যে কর্মস্পৃহা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *