নৈমিত্তিক । অর্জিত । মাতৃত্বকালীন

সরকারি কর্মচারীদের অর্জিত ছুটির নিয়মকানুন: জেনে নিন হিসাব-নিকাশের বিস্তারিত বিধিমালা

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ছুটি। বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মচারীরা তাদের কর্মকালীন সময়ের ওপর ভিত্তি করে দুইভাবে ‘অর্জিত ছুটি’ লাভ করে থাকেন। এই ছুটি সাধারণত ১) পূর্ণ গড় বেতনে এবং ২) অর্ধ গড় বেতনে—এই দুই ভাগে হিসাব করা হয়।

সম্প্রতি সরকারি ছুটির বিধিমালা বিশ্লেষণ করে এর অর্জন, জমা এবং রূপান্তরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সামনে এসেছে। সরকারি চাকুরেদের সুবিধার্থে বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. পূর্ণ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি (স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য)

স্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কর্মকালীন মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এই ছুটির হিসাব করা হয়।

  • ছুটি অর্জনের হার: একজন স্থায়ী সরকারি কর্মচারী প্রতি ১১ দিন কর্মকালীন সময়ের জন্য ১ দিন করে পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি অর্জন করেন।

  • ছুটি জমার সর্বোচ্চ সীমা: এই ছুটি সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত জমা হয়ে থাকবে।

  • ৪ মাসের অতিরিক্ত ছুটি: ৪ মাসের অতিরিক্ত সময়ের অর্জিত ছুটি কর্মচারীর ছুটির হিসাবে আলাদাভাবে জমা রাখা হয়।

  • অতিরিক্ত ছুটির ব্যবহার: এই আলাদাভাবে জমাকৃত অতিরিক্ত ছুটি বিশেষ শর্তে ব্যবহার করা যাবে। যেমন—মেডিকেল প্রত্যয়নপত্র (Medical Certificate) উপস্থাপন সাপেক্ষে, ধর্মীয় পুণ্যস্থান দর্শনের উদ্দেশ্যে অথবা শিক্ষা ও চিত্তবিনোদনের নিমিত্তে ভারত, বার্মা (মিয়ানমার) ও শ্রীলঙ্কার বাইরে যাওয়ার জন্য পূর্ণ গড় বেতনে এই ছুটি নেওয়া যাবে।

  • এককালীন ছুটির সীমা: একজন স্থায়ী কর্মচারীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ মাসের বেশি পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না। তবে চিকিৎসা বা বিদেশ ভ্রমণের বিশেষ ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

২. অর্ধ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি (প্রাথমিক শিক্ষক ও সাধারণ স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য)

সাধারণ স্থায়ী কর্মচারীদের পাশাপাশি এটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য।

  • ছুটি অর্জনের হার: কর্মকালীন সময়ের প্রতি ১২ দিনের জন্য ১ দিন করে অর্ধ গড় বেতনে ছুটি অর্জিত হয়।

  • জমার সীমা: এই ছুটি সম্পূর্ণ সীমাহীনভাবে জমা হতে থাকে। অর্থাৎ, জমা হওয়ার কোনো সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বসীমা নেই।

  • পূর্ণ গড় বেতনে রূপান্তর: একজন কর্মচারী চাইলে তার সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত অর্ধ গড় বেতনের ছুটিকে পূর্ণ গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করতে পারবেন।

  • রূপান্তরের শর্ত ও হার: মেডিকেল প্রত্যয়নপত্র ছাড়া এই ছুটি রূপান্তর করা যায় না। রূপান্তরের হার হচ্ছে—প্রতি ২ দিন অর্ধ গড় বেতনের ছুটির বিপরীতে ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনের ছুটি পাওয়া যাবে।

৩. অস্থায়ী কর্মচারীদের ছুটির বিধিমালা

যেসব সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে ৩ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে গণ্য করে ছুটির হিসাব করা হয়:

  • পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি: চাকরির মেয়াদ ৩ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ২২ দিন কর্মকালীন সময়ের জন্য ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি পাবেন। এভাবে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ছুটি জমা করা যাবে।

  • অর্ধ গড় বেতনে ছুটি: ৩ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৩০ দিন কর্মরত থাকার বিপরীতে ১ দিন অর্ধ গড় বেতনে ছুটি পাওয়া যাবে। তবে এই ছুটি ভোগ করতে হলে অবশ্যই মেডিকেল প্রত্যয়নপত্র (Medical Certificate) প্রদর্শন করতে হবে।

সারসংক্ষেপ: সরকারি ছুটির বিধিমালা অনুযায়ী, স্থায়ী কর্মচারীরা যেখানে ১১ দিনে ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি পান, সেখানে অস্থায়ী বা নতুনদের জন্য এই নিয়ম কিছুটা ভিন্ন (২২ দিনে ১ দিন)। আবার অর্ধ গড় বেতনের ছুটি জমার কোনো শেষ সীমা না থাকায়, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে তা পরবর্তীতে পূর্ণ গড় বেতনে রূপান্তর করে নেওয়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে সরকারি চাকরিতে।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *