অনিয়মিত শিল্পীদের সম্মানী বাড়ানোর অনুমোদন দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ বেতারের জন্য অনিয়মিত ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনকারী শিল্পীদের সম্মানী বৃদ্ধি করতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে একই হারে সম্মানী পাওয়া শিল্পীরা আগের তুলনায় বেশি পারিশ্রমিক পাবেন। তবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি গ্রহণ করা হবে না এবং বিদ্যমান বাজেটের মধ্য থেকেই এই ব্যয় নির্বাহ করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একটি সরকারি পত্রে এ অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে। পত্রটি ২০২০ সালের ১৬ জুন জারি করা হয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়।
দৈনিক সম্মানী বাড়ছে
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বেতারের অনিয়মিত শিল্পীদের নতুন সম্মানী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে—
- নতুন অনুপ্রবেশকারী (নতুন) শিল্পীদের দৈনিক সম্মানী ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অন্যান্য অনিয়মিত শিল্পীদের দৈনিক সম্মানী ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা সম্মানী কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং শিল্পীরা আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
যেসব শর্তে অনুমোদন
অর্থ বিভাগ সম্মানী বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও আরোপ করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- সম্মানী বৃদ্ধির ব্যয় বিদ্যমান বাজেট থেকেই বহন করতে হবে।
- এ কারণে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া যাবে না।
- প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
- অনিয়মিত শিল্পীদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২১ দিনের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা যাবে।
- ৯ মাস শেষে অন্তত ১ মাসের বিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি বিধি-বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা
বাংলাদেশ বেতারের অনিয়মিত শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মানী বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অর্থ বিভাগের এই অনুমোদন সেই দাবির আংশিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বাজেটের মধ্য থেকেই ব্যয় সমন্বয় করতে হবে।
সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতারের অনিয়মিত শিল্পীদের আর্থিক প্রণোদনা কিছুটা বাড়বে এবং তাদের কর্মসম্পৃক্ততায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।



