শেষ বেতনের ৯০ শতাংশ ধরে মাসিক পেনশন গণনার উদাহরণ ভাইরাল, চিকিৎসা ভাতা ও বিশেষ প্রণোদনাও যুক্ত?
সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সংক্রান্ত একটি হিসাবের উদাহরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর সম্ভাব্য মাসিক পেনশন কীভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে, তার একটি নমুনা হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে শেষ প্রাপ্ত মূল বেতন, পেনশনযোগ্য হার, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ প্রণোদনা যোগ করে মাসিক পেনশনের পরিমাণ দেখানো হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, উদাহরণে একজন কর্মচারীর শেষ মূল বেতন ৫৩,০০০ টাকা ধরা হয়েছে। পেনশনযোগ্য হার ৯০ শতাংশ হিসেবে গণনা করে তার অর্ধেক অর্থের সঙ্গে চিকিৎসা ভাতা ও বিশেষ প্রণোদনা যোগ করা হয়েছে।
যেভাবে হিসাব দেখানো হয়েছে
উদাহরণে ব্যবহৃত সূত্রটি হলো—
মাসিক পেনশন = {(শেষ মূল বেতন × পেনশনযোগ্য হার) ÷ ২} + চিকিৎসা ভাতা + বিশেষ প্রণোদনা
সেখানে হিসাবটি নিম্নরূপ দেখানো হয়েছে—
- শেষ মূল বেতন: ৫৩,০০০ টাকা
- পেনশনযোগ্য হার: ৯০ শতাংশ
- চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা
- বিশেষ প্রণোদনা: ২,৩৮৫ টাকা
এ হিসেবে মাসিক পেনশন দাঁড়ায়—
((৫৩,০০০ × ৯০%) ÷ ২) + ১,৫০০ + ২,৩৮৫ = ২৭,৭৩৫ টাকা।
৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে পেনশন
উদাহরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো পেনশনভোগীর বয়স ৬৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে ২,৫০০ টাকা ধরা হবে।
সে ক্ষেত্রে একই বেতনের ভিত্তিতে মাসিক পেনশন হবে—
২৮,৭৩৫ টাকা।
বিশেষ প্রণোদনা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়
ছবিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- মাসিক পেনশন ১৭,৩৮৯ টাকা বা তার বেশি হলে বিশেষ প্রণোদনা নিট পেনশনের ১০ শতাংশ।
- মাসিক পেনশন ১৭,৩৮৮ টাকা বা তার কম হলে বিশেষ প্রণোদনা ১৫ শতাংশ।
- তবে বিশেষ প্রণোদনার ন্যূনতম পরিমাণ ৭৫০ টাকা।
যা জানা প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর চাকরির ধরন, অবসরের তারিখ, কার্যকর সরকারি বিধিমালা, পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের হিসাবকে শুধু একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত।
চূড়ান্ত পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদিত হিসাব, সরকারি বিধি এবং অর্থ বিভাগের কার্যকর নির্দেশনাই প্রযোজ্য হবে।



