সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

ভ্রমণ ভাতা ব্যয়ে ৫০ শতাংশ নাকি ১০০ শতাংশ? সরকারি বরাদ্দ ও কৃচ্ছসাধন নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি

সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে ভ্রমণ ভাতা (টিএ/ডিএ) খাতে বরাদ্দ ব্যয় নিয়ে সম্প্রতি বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কোনো দপ্তরে ভ্রমণ ভাতা বাবদ নতুন করে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর পুরো অর্থ উত্তোলন করা যাবে কি না, নাকি কৃচ্ছসাধন নীতির কারণে মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে—এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা, বরাদ্দপত্রে উল্লেখিত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অব্যয়িত অর্থের অবস্থার ওপর। ফলে এককভাবে “৫০ শতাংশ” বা “১০০ শতাংশ” ব্যয় করা যাবে—এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

কৃচ্ছসাধন নীতির কারণে বিভ্রান্তি

সরকারের ব্যয় সংকোচন বা কৃচ্ছসাধন নীতির আওতায় ভ্রমণ ব্যয়, প্রশিক্ষণ ব্যয়, যানবাহন ক্রয়, কম্পিউটার ও অন্যান্য কিছু পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন বরাদ্দ পেলেও তার মাত্র অর্ধেক অর্থ ব্যয় করা যাবে।

তবে অর্থ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃচ্ছসাধন সংক্রান্ত নির্দেশনা সব বরাদ্দের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বরং অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বিভিন্ন খাতের জন্য আলাদা আলাদা ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কী নির্দেশনা রয়েছে?

আলোচনায় উঠে এসেছে যে, ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় ভ্রমণ ব্যয় খাতের অব্যয়িত অর্থের নির্দিষ্ট অংশ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন হিসাব ও অর্থ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রমণ ব্যয় খাতে অব্যয়িত অর্থের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ফলে শুধুমাত্র “৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে” এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নাও হতে পারে। প্রকৃত অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপত্র ও অর্থ বিভাগের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বকেয়া ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে কী হবে?

যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পূর্বের ভ্রমণ ভাতার বিল বৈধভাবে পাওনা হিসেবে জমা থাকে এবং সেই খাতে নতুন বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণত চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সেই বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।

অর্থ প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে যথাযথ কাগজপত্র ও অনুমোদনের মাধ্যমে বিল উপস্থাপন করা হলে বরাদ্দের মধ্যে থাকা অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে গেলে পরবর্তী অর্থবছরে সেই একই বরাদ্দের বিপরীতে দাবি উত্থাপন করা সাধারণত সম্ভব হয় না, যদি না বিশেষ কোনো বিধান বা পুনঃবরাদ্দের ব্যবস্থা থাকে।

বরাদ্দপত্রই হবে চূড়ান্ত নির্দেশনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণ ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপত্র। কারণ বরাদ্দপত্রের শেষ অংশে অনেক সময় ব্যয়ের সীমা, কৃচ্ছসাধন সংক্রান্ত শর্ত, অব্যয়িত অর্থ ব্যবহারের নিয়ম এবং অন্যান্য বিশেষ নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

তাই কোনো দপ্তর ১০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা খাতে বরাদ্দ পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো অর্থ উত্তোলন করা যাবে বা মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বরাদ্দপত্র, অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মতামত যাচাই করা প্রয়োজন।

উপসংহার

ভ্রমণ ভাতা খাতে নতুন বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন দাবি সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়। আবার সব অবস্থায় ১০০ শতাংশ অর্থ উত্তোলনও সম্ভব হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই। যদি পূর্বের বৈধ বকেয়া ভ্রমণ বিল থাকে এবং বরাদ্দপত্রে কোনো বাধা না থাকে, তাহলে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই তা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপত্র ও অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ ও আইনসম্মত পন্থা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *