পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

চাকরিরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করলে কী কী আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়? আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার একাধিক আর্থিক সুবিধা ও অনুদান পাওয়ার অধিকারী হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা জানেন না কোন সুবিধার জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং আবেদনগুলো কোন ক্রমে সম্পন্ন করা উচিত। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পিআরএল (Post Retirement Leave) প্রাপ্য হয় না। কারণ পিআরএল শুধুমাত্র অবসর-পূর্ব ছুটির একটি সুবিধা, যা জীবিত অবস্থায় অবসরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পিআরএল মঞ্জুরের সুযোগ নেই।

তবে মৃত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জমাকৃত অর্জিত ছুটির ভিত্তিতে লাম্পগ্রান্ট প্রাপ্য হতে পারে। এ জন্য ছুটির হিসাব নির্ধারণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

যেসব আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে

চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উত্তরাধিকারীরা সাধারণত নিম্নোক্ত সুবিধাগুলোর জন্য আবেদন করতে পারেন—

  • লাম্পগ্রান্ট (অর্জিত ছুটির নগদায়ন)
  • জিপিএফ (General Provident Fund) চূড়ান্ত উত্তোলন
  • পারিবারিক পেনশন
  • আনুতোষিক (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • যৌথ বীমার অর্থ
  • মাসিক কল্যাণ তহবিলের সুবিধা
  • দাফন অনুদান
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আর্থিক অনুদান (বর্তমানে ৮ লাখ টাকা হিসেবে আলোচিত)
  • বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অনুদান (সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী)

ডিসি অফিসের ৮ লাখ টাকার অনুদানের আবেদন কোথায় করবেন?

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রদেয় বিশেষ আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সর্বশেষ কর্মস্থলের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর স্থান নয়, বরং যেখানে তিনি চাকরিরত ছিলেন সেই দপ্তর বা অফিস থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও প্রচলিত পদ্ধতি।

তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা কর্মস্থলের হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।

জিপিএফের আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

জিপিএফের চূড়ান্ত উত্তোলনের জন্য সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—

  • নির্ধারিত আবেদনপত্র
  • মৃত্যু সনদের কপি
  • ওয়ারিশ সনদ
  • নমিনি ফরমের কপি (যদি থাকে)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাব বা চেক বইয়ের কপি
  • সর্বশেষ এলপিসি (LPC)
  • চাকরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি
  • অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন

কল্যাণ বোর্ডের অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অনুদানের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়—

  • নির্ধারিত আবেদন ফরম
  • মৃত্যু সনদ
  • ওয়ারিশ সনদ
  • নমিনির তথ্য
  • আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র

আরও যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো

আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যদের নিম্নোক্ত নথিগুলো সংগ্রহে রাখার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা—

  • বেতন নির্ধারণ (Pay Fixation) এর কপি
  • এলপিসি (Last Pay Certificate)
  • ওয়ারিশ সনদ
  • অবিবাহিত কন্যার ক্ষেত্রে নন-ম্যারেজ সনদ (প্রযোজ্য হলে)
  • ক্ষমতা অর্পণপত্র বা এফিডেভিট (প্রয়োজন অনুযায়ী)
  • নমিনি সংক্রান্ত কাগজপত্র
  • ব্যাংক হিসাবের তথ্য

ধারাবাহিকভাবে আবেদন করার পরামর্শ

অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, মৃত্যুর পর আর্থিক সুবিধাগুলো একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে আবেদন করলে প্রক্রিয়া সহজ হয়। প্রথমে মৃত্যুজনিত কাগজপত্র ও ওয়ারিশ সংক্রান্ত নথি সম্পন্ন করে লাম্পগ্রান্ট, জিপিএফ, পারিবারিক পেনশন, আনুতোষিক, যৌথ বীমা, কল্যাণ তহবিল, দাফন অনুদান এবং বিশেষ আর্থিক অনুদানের আবেদন পর্যায়ক্রমে করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে অধিকাংশ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় এবং মৃত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবার তাদের প্রাপ্য সুবিধা তুলনামূলক কম সময়ে পেয়ে থাকে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *