৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম পে-স্কেল ১ জুলাই : মূল বেতন ৫০% বাড়লেও বিশেষ সুবিধা বাতিলে প্রকৃত বৃদ্ধি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) এক লাফে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তবে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল হয়ে যাবে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির হার গ্রেডভেদে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এককালীন বিশাল আর্থিক চাপ সামলাতে সরকার পুরো পে-স্কেলটি একবারে বাস্তবায়ন না করে মোট তিনটি ধাপে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেসিকের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই নতুন বেতন কাঠামোর জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশেষ সুবিধা বাতিলের হিসাব ও গ্রেডভিত্তিক প্রকৃত বৃদ্ধি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানের বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাবটি দাঁড়াবে নিম্নরূপ:

  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারী): এই স্তরের কর্মচারীরা বর্তমানে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলে তাদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ১৫ শতাংশ সুবিধা বাতিল হওয়ায় তাদের প্রকৃত বেতন বাড়বে ৩৫ শতাংশ

  • ১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা পর্যায়): ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীরা বর্তমানে ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পান। নতুন কাঠামোতে এই ১০ শতাংশ সুবিধা বাতিল হওয়ার পর তাদের প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি পাবে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ

ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটির সুপারিশ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলের রূপরেখা তিন বছরে সম্পন্ন হবে:

  1. প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬): মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে (বিশেষ সুবিধা সমন্বয় সাপেক্ষে)।

  2. দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮ অর্থবছর): মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ যুক্ত হবে।

  3. তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ও শিক্ষা ভাতাসহ অন্যান্য সব আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি নতুন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত:

বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার একবারে শতভাগ বেতন না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে। এতে বাজারে হুট করে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি সরকারের ওপরও এককালীন বড় কোনো আর্থিক বোঝা চাপবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত রূপরেখা ও প্রজ্ঞাপন বা গেজেট যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক জারির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। নতুন পে-স্কেলের এই ঘোষণার পর সারাদেশের সচিবালয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *