ধাপে ধাপে নয়, একবারে পূর্ণাঙ্গ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি: প্রধানমন্ত্রী সমীপে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপি
আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সামনে রেখে প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন না করে, একবারে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আবেদন জানিয়েছে “বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ”।
গত ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরাসরি জমা দেওয়া এক বিশেষ স্মারকলিপিতে (সূত্র: -১৭/২০২৬) এই দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ মূলত সচিবালয়ের বাইরে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ মোর্চা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের বৈষম্যমূলক ৮ম পে-স্কেল প্রদানের পর থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। বিগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উপরন্তু, বিগত সরকারের আমলে এই সংগঠনের ন্যায্য দাবিগুলোকে আমলে না নিয়ে নেতৃবৃন্দের ওপর বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা নানাভাবে জুলুম-অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বর্তমানে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং চরম মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত নিম্ন-আয়ের কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত অমানবিক ও দুস্থ জীবনযাপন করছেন। এই বাস্তবতার নিরিখে পে-স্কেল ধাপে ধাপে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে স্মারকলিপিতে ০৭ দফা দাবিমালা পেশ করা হয়েছে:
১. ১:৪ অনুপাতে পে-স্কেল ও সর্বনিম্ন বেতন: ১:৪ অনুপাতে ১২টি ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০/- টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন না করে সম্পূর্ণ একসাথে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা: ইতোমধ্যে যেসকল কর্মচারীদের মূলবেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে অথচ যাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না, তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) অব্যাহত রাখতে হবে।
৩. টাইম স্কেল ও গ্র্যাচুইটি সংশোধন: ২০১৫ সালে পে-কেলের গেজেটে প্রত্যাহারকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পূর্ববৎ পুনর্বহাল করতে হবে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাচুইটির হার ৯০% এর পরিবর্তে ১০০% নির্ধারণ এবং পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৪. পদোন্নতি ও বিচার বিভাগীয় মর্যাদা: ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীদেরসহ সকল পদে কর্মরতদের প্রতি ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের ‘বিচার বিভাগীয় কর্মচারী’ হিসেবে গণ্য করাসহ কারিগরি কাজে নিয়োজিতদের ‘টেকনিক্যাল পদ মর্যাদা’ দিতে হবে।
৫. রেশন ব্যবস্থা ও বয়সসীমা: বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনা করে সকল সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘রেশন ব্যবস্থা’ প্রবর্তন করতে হবে। এছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।
৬. উন্নয়ন প্রকল্প ও পেনশন কর্তন রোধ: বিগত ১-১১ সরকারের সময় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দিতে হবে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ১৩৭/২০১৫ এর রায় বাস্তবায়ন করে পেনশনে গমনকারী কর্মচারীদের লক্ষ লক্ষ টাকা কর্তন বন্ধ করতে হবে।
৭. ‘ইনসিটু’ পদ্ধতিতে পদোন্নতি: কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ কম থাকায় পদোন্নতি বঞ্চিতদের যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের ন্যায় ‘ইনসিটু’ (In-situ) পদ্ধতিতে যথাসময়ে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপির শেষাংশে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারি কর্মচারীদের সরাসরি অভিভাবক। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি শিক্ষক ও কর্মচারীদের এই ন্যায্য এবং মানবিক দাবিগুলো গভীর সহানুভূতি সহকারে বিবেচনা করবেন এবং দীর্ঘ ১১ বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূরীকরণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


