সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধন : ধারা ২০ বিলুপ্তির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল করতে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শীর্ষক বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এ বিলে মূল আইনের ধারা ২০ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, বিলটি ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (২৭ জুন ২০২৬) তারিখে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। বিলটি পাস হলে এটি “সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬” নামে পরিচিত হবে এবং গেজেটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে?
সংশোধনী বিলে মূল সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৮১ নম্বর আইন)-এর ধারা ২০ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ধারা ২০ আর বলবৎ থাকবে না।
কেন এই সংশোধন?
গেজেটে প্রকাশিত “উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতি”-তে বলা হয়েছে, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২০ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ও সমালোচনা উঠে আসে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ধারাটি বাতিল করা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে সরকার মনে করেছে। সেই লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রভাব
আইনটি সংসদে পাস হয়ে গেজেট আকারে কার্যকর হলে—
- সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২০ আর কার্যকর থাকবে না।
- আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ধারার প্রয়োগ বন্ধ হবে।
- সাইবার সুরক্ষা আইনের কাঠামো সংশোধিত রূপে কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার এবং আইন প্রয়োগের ভারসাম্য বজায় রাখতে সময়ে সময়ে আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। ধারা ২০ বাতিলের উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উপসংহার
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২০ বিলুপ্তির এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল আইন কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংশোধনী বিলটি সংসদে পাস হয়ে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পরই এর পূর্ণ আইনি প্রভাব স্পষ্ট হবে।



