৯ম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ : ইনক্রিমেন্টের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন, গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বাড়বে বেতন
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। যদিও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সারা দেশের লাখ লাখ চাকরিজীবী। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশেষ করে সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে এবার গ্রেডভেদে ভিন্ন হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইনক্রিমেন্টে নতুন সমীকরণ বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডের জন্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ হারে নির্ধারিত থাকলেও, নবম পে স্কেলের প্রাথমিক খসড়ায় এতে ভিন্নতা আনা হচ্ছে। খসড়া অনুযায়ী:
ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: মূল বেতনের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে।
পঞ্চম গ্রেড: ৪ শতাংশ।
তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেড: ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় গ্রেড: ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
প্রথম গ্রেড: এই গ্রেডের জন্য ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বড় আকারের জনমত জরিপ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংগৃহীত মতামতে দেখা গেছে, প্রায় ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানের প্রচলিত ৫ শতাংশের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইনক্রিমেন্ট কাঠামো সাজানোর পক্ষেই অধিকাংশ চাকরিজীবী ও সাধারণ নাগরিক মত দিয়েছেন।
ভাতা কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা মূল বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও কিছু কিছু ভাতার ক্ষেত্রে কমিশনের মূল সুপারিশ থেকে কিছুটা পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার কথা থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তা ৩ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, সন্তানদের শিক্ষা ভাতা কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, নতুন কাঠামোতে সব ধরনের ভাতার হার বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।
বেতন বৃদ্ধির প্রভাব: একটি চিত্র সরকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট প্রাপ্তি প্রায় ১৬,৯৫০ টাকা। নতুন কাঠামোতে মূল বেতন ২০,০০০ টাকা হলে, ভাতাসহ মোট প্রাপ্তি প্রায় ৪১,৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
উচ্চ গ্রেডের ক্ষেত্রেও বেতন বৃদ্ধি পাবে, তবে সমতা বজায় রাখার স্বার্থে ভাতা বৃদ্ধির হার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা মূলত ১০ম বা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরাই বেশি পেয়ে থাকেন। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে গেজেট প্রকাশের জন্য আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


