New income tax and vat rate 2026 । নতুন আয়কর ও ভ্যাট হার সর্বশেষ কার্যকর হয়েছে যা
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অর্থে পরিচালিত সংস্থাগুলোর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর (TDS) ও ভ্যাট (VAT) কর্তনের নতুন হার কার্যকর হয়েছে। অর্থ আইন, ২০২৬ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ বিধান অনুযায়ী এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব অডিট অধিদপ্তরও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কোডভিত্তিক ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের হার সম্বলিত একটি রেফারেন্স চার্ট প্রকাশ করেছে, যা বিল নিষ্পত্তির সময় অনুসরণ করা হবে।
নতুন চার্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয়, সেবা গ্রহণ, ভাড়া, মেরামত, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞাপন, পরিবহন, কুরিয়ারসহ প্রায় সব ধরনের সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করতে হবে। এর ফলে বিল প্রস্তুত ও নিষ্পত্তির সময় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বিল গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের নতুন হার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেসব খাতে পরিবর্তিত হার প্রযোজ্য
রাজস্ব অডিট অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী—
- পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ক্রয়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ এবং আয়কর ৫ শতাংশ।
- অফিস ভবন ভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও আয়কর ১০ শতাংশ।
- ইন্টারনেট বিলে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং আয়কর ৫ শতাংশ।
- প্রচার ও পেপার বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আয়কর ৫ শতাংশ (সাইনবোর্ডে ১ শতাংশ)।
- প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার ব্যয়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং আয়কর ৪ শতাংশ।
- কুরিয়ার সেবায় ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও আয়কর ৪ শতাংশ।
- পরিবহন ব্যয়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং আয়কর ২ শতাংশ।
- মোটরযান, আসবাবপত্র ও কম্পিউটার মেরামতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং আয়কর ২ শতাংশ।
- সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রযোজ্য না হলেও উৎসে আয়কর ২০ শতাংশ কর্তন করতে হবে।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্রয়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং আয়কর ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন
নতুন হার সরাসরি প্রভাব ফেলবে—
- সরকারি দপ্তরের হিসাব ও অর্থ শাখা,
- বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা,
- ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান,
- প্রশিক্ষণ, কনসালটেন্সি ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান,
- বিজ্ঞাপন সংস্থা,
- আইটি ও কম্পিউটার সরঞ্জাম সরবরাহকারী,
- ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল হারে উৎসে কর বা ভ্যাট কর্তন করলে পরবর্তীতে অডিট আপত্তি, বিল সংশোধন এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি বিলের অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী সঠিক হার অনুসরণ করা জরুরি।
অর্থ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অর্থ আইন কার্যকর হওয়ার পর উৎসে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান হালনাগাদ করা হয়েছে। সরকারি বিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সর্বশেষ চার্ট অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সরকারি বিল দাখিল বা পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের হার যাচাই করা উচিত। কারণ একই ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক কোডভেদে কর্তনের হার ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া এনবিআর ভবিষ্যতে কোনো নতুন এসআরও বা সংশোধনী জারি করলে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।




