নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আইএমএফ-এর সতর্কবার্তা এবং সরকারের কৌশলগত অবস্থান
দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব খাতের ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারকে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফ-এর উদ্বেগের মূল কারণসমূহ:
রাজস্ব ঘাটতি ও বাজেট চাপ: সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি করা হলে তা সরকারি ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং বাজেট ঘাটতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে।
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি: একসঙ্গে বড় অংকের অর্থ বাজারে ছাড়লে তা চলমান মূল্যস্ফীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, এটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ালেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজেটে বরাদ্দ ও চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯,৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশনসহ মোট ১ লাখ ৪১,৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতের অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ নতুন পে-স্কেল, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও সচিব কমিটির সুপারিশমালা ও গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় চাকরিজীবীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা: অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি বা বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে তা ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটসহ অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হতে পারে এবং পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো যুক্ত করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে, তেমনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও সমানভাবে জরুরি। তাই সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমেই নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।



