১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল? চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যুক্ত হলো সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে গঠিত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কী রয়েছে চিঠিতে
২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিদপ্তর থেকে জারি করা চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- Vertical Scale নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক কাঠামো নির্ধারণ।
- সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য One Rank One Pension (OROP) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুপারিশ।
- বিমান বাহিনীর বৈমানিক কর্মকর্তাদের Flying Pay (উড্ডয়ন ভাতা) বর্তমান ৫,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সব রিজার্ভ পাইলটের জন্য ৫,০০০ টাকা ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ।
- সশস্ত্র বাহিনীর পেনশন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
One Rank One Pension নিয়ে গুরুত্ব
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য One Rank One Pension ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার (Data Base) প্রস্তুত নেই। তাই প্রথম ধাপে পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করে ভবিষ্যতে একই পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য সমমানের পেনশন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে একই পদমর্যাদায় অবসর নেওয়া সদস্যদের মধ্যে পেনশন বৈষম্য কমে আসতে পারে।
Flying Pay বৃদ্ধির সুপারিশ
চিঠিতে বিমান বাহিনীর বৈমানিক কর্মকর্তাদের Flying Pay দ্বিগুণ করার সুপারিশ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫,০০০ টাকা থাকা এ ভাতা ১০,০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ পাইলটদের জন্যও আলাদা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অংশ
সরকারি চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির পৃথক সুপারিশ পর্যালোচনার পর এগুলোকে সমন্বিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
এর আগে সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়।
১ জুলাই থেকে কার্যকারিতা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
সরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। তবে নতুন বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার চূড়ান্ত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারি গেজেট বা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটি সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রস্তাব চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করেছে। তবে নতুন পে-স্কেলের সব আর্থিক হার, গ্রেডভিত্তিক বেতন এবং বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট বা প্রজ্ঞাপনেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।



