৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১ জুলাই থেকে শতভাগ মূলবেতন একবারে দেওয়ার দাবি: ‘প্রজ্ঞাপন যখনই হোক, বকেয়াসহ টাকা চাই’

আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি। তবে নতুন এই বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বা আংশিক কার্যকর না করে, ১ জুলাই থেকেই বকেয়াসহ শতভাগ মূলবেতন (বেসিক পে) একবারে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবী ও বিভিন্ন সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টার ও লিফলেটের তথ্যানুযায়ী, চাকুরিজীবীদের স্পষ্ট বার্তা—‘প্রজ্ঞাপন যখনই হোক, বকেয়াসহ শতভাগ মূলবেতন ১ জুলাই/২৬ থেকে একবারে চাই!’।

আন্দোলনরত চাকুরিজীবীরা তাদের এই একটিমাত্র ন্যায্য দাবিতে অটল ও ঐক্যবদ্ধ।

চাকুরিজীবীদের মূল দাবি ও অবস্থান

সচিব কমিটির বৈঠকের সংখ্যা বা প্রজ্ঞাপন জারির নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কর্মচারীদের কোনো দ্বিধা নেই। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্ত আর্থিক সুবিধাটি যেন এককালীন এবং পুরোপুরি পাওয়া যায়। ছবি 1.jpg-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের প্রধান দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শতভাগ মূলবেতন একবারে প্রদান: নতুন বেতন কাঠামো কোনো প্রকার কিস্তি বা ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারে শতভাগ মূলবেতন হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।

  • বকেয়াসহ কার্যকরের দাবি: নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে যদি কোনো কারণে বিলম্বও হয়, তবুও তা আগামী ১ জুলাই/২৬ থেকে কার্যকর ধরে পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে এককালীন পরিশোধ করতে হবে।

  • একতাই শক্তি: নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকল চাকুরিজীবী ঐক্যবদ্ধ এবং ‘ন্যায্য দাবি মানতেই হবে, মানতেই হবে’ স্লোগানে অনড় অবস্থান প্রকাশ করছেন।

সচিব কমিটির বর্তমান প্রস্তুতি ও বিকল্প সমীকরণ

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক ও দেশীয় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে সরকার আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এটি কত ধাপে বা কী প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের ভেতরে একাধিক বিকল্প সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে:

১. প্রথম প্রস্তাব: প্রথম ধাপে মূল বেতনের ঢালাও ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

২. দ্বিতীয় প্রস্তাব (গ্রেডভিত্তিক): ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা।

৩. তৃতীয় প্রস্তাব: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের বেসিক বা মূল বেতন প্রথম ধাপেই শতভাগ বৃদ্ধি করা।

কর্মচারী নেতাদের বক্তব্য:

“সরকার যেখানে নিম্ন গ্রেডের বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন বিকল্প ভাবছে, সেখানে আমাদের একটাই স্লোগান—‘বকেয়াসহ শতভাগ মূলবেতন চাই’। ধাপে ধাপে বেতন বাড়ালে বর্তমান বাজারের উচ্চ মূল্যস্ফীতির সাথে সাধারণ চাকুরিজীবীরা টিকে থাকতে পারবে না। তাই ১ জুলাই থেকেই যেন একবারে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা দেওয়া হয়।”

আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া

আইনগতভাবে ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেল কার্যকর ধরা হবে বিধায় কর্মচারীরা পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে এই টাকা এককালীন পেয়ে যাবেন—এমন আশ্বাসও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে সাধারণ চাকুরিজীবীদের দাবি, কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না রেখে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ধাপেই শতভাগ বর্ধিত বেতন প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হোক।

সরকার শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *