সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের চাপে পে কমিশন, স্বীকার করলেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা
সরকারি চাকরিজীবীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণেই সরকার পে কমিশন গঠনে বাধ্য হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল এবং সেই পরিস্থিতিই সরকারকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করে।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের কারণেই পে কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়েছি। তখন প্রায় প্রতিদিনই আন্দোলন হতো; একবার রেল অবরোধ করে রাখা হয়েছিল, আমি নিজেও ২–৩ ঘণ্টা আটকে ছিলাম। গত ১০–১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এখন দরকার ছিল, এটা বাস্তবায়ন করাও দরকার।”
এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এবং আন্দোলনের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
১০ বছরের বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনও ২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের ভিত্তিতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। যদিও প্রচলিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় পরপর বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রত্যাশা থাকে, বাস্তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন স্কেল কার্যকর হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
আন্দোলনের পটভূমিতে পে কমিশন
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ধারাবাহিকভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন, স্মারকলিপি, কর্মবিরতি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি রেল অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটে। সাবেক অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব আন্দোলনের প্রভাব সরকার সরাসরি অনুভব করেছিল এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি
সাবেক অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে বাস্তবতা হিসেবে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষা
সরকার ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠন করেছে। কমিশন বিভিন্ন পক্ষের মতামত, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় সুপারিশ প্রস্তুত করছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, নতুন বেতন কাঠামোতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত গেজেট প্রকাশ এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের দাবিও জানিয়ে আসছেন।



