মেয়াদ পূর্ণ হওয়া ডিপিএস ভাঙাতে কী কী কাগজপত্র লাগে? কৃষি ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) হিসাব ভাঙিয়ে জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ দেশের অধিকাংশ ব্যাংক গ্রাহকের পরিচয় ও হিসাব যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ পরিশোধ করে থাকে।
ব্যাংকিং সূত্রে জানা যায়, ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হলে গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট শাখায় উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন যাচাইয়ের পর ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ করে গ্রাহকের প্রাপ্য মূলধন ও মুনাফা পরিশোধ করে।
ডিপিএস ভাঙাতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়—
- ডিপিএস ভাঙানোর লিখিত আবেদনপত্র।
- ডিপিএসের মূল পাসবুক বা সনদ/রসিদ।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-এর মূল কপি প্রদর্শন এবং একটি ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (প্রয়োজনে)।
- সঞ্চয়ী হিসাবের পাসবুক বা হিসাব নম্বর, যদি অর্থ ওই হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
- ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল না থাকলে নতুন স্বাক্ষর যাচাই।
মেয়াদ পূর্ণ হলে কী হয়?
ডিপিএসের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে গ্রাহক আবেদন করলে ব্যাংক প্রথমে হিসাবের কিস্তি, মেয়াদ এবং পরিচয়পত্র যাচাই করে। এরপর হিসাবটি বন্ধ করে জমাকৃত মূলধনের সঙ্গে প্রাপ্য মুনাফা হিসাব করে গ্রাহকের হাতে নগদ অথবা তার সঞ্চয়ী হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
অন্য কেউ টাকা তুলতে পারবেন?
হিসাবধারী নিজে উপস্থিত হতে না পারলে সাধারণত অন্য কাউকে অর্থ প্রদান করা হয় না। বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, আদালতের নির্দেশনা বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র থাকলে ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তি করে।
গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পাসবুক, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আবেদনপত্র প্রস্তুত রাখলে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। তবে কোনো শাখা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ডিপিএস হিসাব অকার্যকর অবস্থায় না রেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করলে গ্রাহক সহজেই তার সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে পারেন এবং প্রয়োজনে নতুন সঞ্চয় প্রকল্পেও বিনিয়োগের সুযোগ পান।



