ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

সোনার বাজারে নতুন দামের ঝড়: ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

ফলে ২৩ আগস্ট ২০২৬, রোববার দেশের বাজারে স্বর্ণ কিনতে গেলে সর্বশেষ কার্যকর এই দরই প্রযোজ্য হবে—যতক্ষণ না বাজুস নতুন করে মূল্য সমন্বয় করে।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। অর্থাৎ এক ভরি স্বর্ণের দামই এখন আড়াই লাখ টাকার খুব কাছাকাছি।

প্রতি গ্রাম হিসাবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ১০০ টাকা। সেই হিসাবে এক ভরি বা ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

এক আনা স্বর্ণের দামও ছাড়িয়েছে ১৫ হাজার টাকা

স্বর্ণের দাম ভরি হিসাবে প্রচার হলেও সাধারণ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ আনা হিসাবে হিসাব করেন। এক ভরি সমান ১৬ আনা। সেই হিসাবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক আনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৩৮২ টাকা

অর্থাৎ—

  • ২২ ক্যারেট ১ ভরি: ২,৪৬,১১০ টাকা
  • ২২ ক্যারেট ১ আনা: প্রায় ১৫,৩৮২ টাকা
  • ২২ ক্যারেট ১ গ্রাম: ২১,১০০ টাকা

তবে গয়না কেনার সময় শুধু স্বর্ণের মূল দাম দিলেই হবে না। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট ও গয়নার মজুরি/মেকিং চার্জ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

২১ ও ১৮ ক্যারেটের দামও বেড়েছে

শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ নির্ধারিত দরে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা

স্বর্ণের মানপ্রতি ভরির নতুন দাম২২ ক্যারেট২,৪৬,১১০ টাকা২১ ক্যারেট২,৩৫,০৩০ টাকা১৮ ক্যারেট২,০১,৮৪৬ টাকাসনাতন পদ্ধতি১,৬৪,৮১২ টাকা

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি

স্বর্ণের বাজারে এবারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই দফা দাম বাড়ানো। এর আগে ২০ আগস্ট ২০২৬ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা করা হয়েছিল।

এরপর ২২ আগস্ট আবারও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে মোট প্রায় ৯ হাজার ৩৩১ টাকা বেড়েছে।

এই হিসাবটি বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।

কেন বারবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম?

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়।

স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়েই দেশের স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুর দাম ওঠানামা করছে।

মধ্যবিত্তের জন্য গয়না কেনা আরও কঠিন

স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। কারণ বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে স্বর্ণের গয়নার চাহিদা ঐতিহ্যগতভাবে বেশি।

ধরা যাক, কেউ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের একটি গয়না কিনতে চান। শুধু ঘোষিত স্বর্ণের দামই দিতে হবে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে গয়নার নকশা ও তৈরির মজুরি এবং প্রযোজ্য ভ্যাট যোগ হলে মোট ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

ফলে আগে যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ওজনের গয়না কেনা সম্ভব ছিল, এখন একই অর্থে তুলনামূলক কম ওজনের গয়না কিনতে হতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়লে এটিকে শুধু গয়না হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার মানের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে বাজারে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়লেও দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে স্বর্ণের দাম সবসময় একমুখীভাবে বাড়ে না। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার, সুদের হার, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারের সরবরাহ-চাহিদার পরিবর্তনের কারণে যেকোনো সময় দাম কমতেও পারে। তাই শুধু সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

সামনে কি আরও দাম বাড়তে পারে?

এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্বর্ণের দাম এখানেই থেমে থাকবে, নাকি আরও বাড়বে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একটি বিষয় স্পষ্ট—দেশের স্বর্ণের বাজার অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে প্রায় ৯ হাজার ৩৩১ টাকা বৃদ্ধিই তার বড় উদাহরণ।

তাই যারা এখন স্বর্ণের গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেনার আগে বাজুসের সর্বশেষ ঘোষিত দর যাচাই করা। কারণ বাজারে ঘোষিত দাম এবং দোকান থেকে গয়না কেনার সময় চূড়ান্ত বিল এক নয়; মজুরি ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচের কারণে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকায় পৌঁছানো দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তর তৈরি করেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য যেমন বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তেমনি স্বর্ণকে সম্পদ হিসেবে ধরে রাখা ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের কাছেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *