৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

৯ম পে-স্কেলের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘ভালো ও গ্রহণযোগ্য’ বেতন কাঠামোর আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ৯ম পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। অর্থ বিভাগের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি ভালো, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পে-স্কেল উপহার দিতে চায় বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ। অর্থমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই চলতি পথে সংগঠনটির মহাসচিব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি, বৈষম্য ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

৯ম পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির বার্তা

সাক্ষাৎকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে নতুন পে-স্কেল। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী জানান, ৯ম পে-স্কেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে বাকি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পথ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈষম্য ও দাবির কথা তুলে ধরা

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় শুধু পে-স্কেল নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন বৈষম্য, আর্থিক অসুবিধা ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ও অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কর্মচারীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোকে আরও ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও কর্মচারীবান্ধব করার আহ্বান জানানো হয়।

লিখিত দাবিপত্র অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিবের হাতে

সাক্ষাৎ শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিসমূহ সম্বলিত একটি লিখিত পত্র অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিব উপসচিব ড. আসিফ ইকবাল-এর হাতে তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি আবদুল মালেক, মহাসচিব আশিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত দাবিপত্র দেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তুলে ধরেছে। এতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস্তব চাহিদা ও বৈষম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘ভালো ও গ্রহণযোগ্য পে-স্কেল’—আশা বাড়ছে কর্মচারীদের

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য পে-স্কেল উপহার দিতে চায়

এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে পে-স্কেলের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার অর্থ এই নয় যে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত গেজেট বা বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর রূপ স্পষ্ট হবে।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯ম পে-স্কেল নিয়ে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—

প্রথমত, পে-স্কেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার অর্থ প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বৈষম্য ও বিভিন্ন দাবি চূড়ান্ত বেতন কাঠামোয় কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নের তারিখ, বেতন-ভাতার কাঠামো এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কর্মচারীবান্ধব সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পে-স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এর সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার মান, ক্রয়ক্ষমতা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়ও জড়িত। তাই নতুন পে-স্কেল কতটা বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য পে-স্কেল দেওয়ার আশ্বাস পরিস্থিতিকে নতুন আশার দিকে নিয়ে গেছে।

এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—চূড়ান্ত পে-স্কেলে যেন ন্যায্যতা, বৈষম্যহীনতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়। দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে একটি ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও কর্মচারীবান্ধব ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *