জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: নিম্ন গ্রেডে তীব্র বেতন বৈষম্য ও প্রকট ব্যবধান?
জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত প্রাথমিক মূল বেতনের তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেশের নিম্ন গ্রেডগুলোতে এক নজিরবিহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন বৈষম্যের চিত্র ফুটে ওঠে। উচ্চ ও মধ্যম গ্রেডগুলোতে মূল বেতনের ব্যবধান ও প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক হলেও, গ্রেড ১১ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান মাত্র কয়েক শ’ টাকায় নেমে এসেছে। যা তীব্র অসন্তোষ ও সামাজিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের ব্যবধানের আকাশ-পাতাল তফাত
প্রস্তাবিত বেতনস্কেলের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৯ পর্যন্ত মূল বেতনের ব্যবধান ও শতাংশ হার তুলনামূলক অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, গ্রেড ৬ ও গ্রেড ৭ এর মধ্যে মূল বেতনের ব্যবধান ১৮,০০০ টাকা (২৩.৬৮%), এবং গ্রেড ৯ ও গ্রেড ১০ এর মধ্যে ব্যবধান ১২,০০০ টাকা (২৯.২৯%)।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে গ্রেড ১০ এর নিচ থেকে। গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২ এর মূল বেতনের ব্যবধান মাত্র ৭০০ টাকা (২.৮০%)। এরপরে গ্রেড ১২ ও গ্রেড ১৩ তে ব্যবধান আরও কমে মাত্র ৬০০ টাকা (১.২৩%) হয়। এমনকি গ্রেড ১৩ ও গ্রেড ১৪ তে এই ব্যবধান মাত্র ৫০০ টাকা (২.০৮%), যা অবিশ্বাস্য রকমের কম। গ্রেড ১৬ ও ১৭, এবং গ্রেড ১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এই ব্যবধান মাত্র ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
মূল পর্যবেক্ষণ: উচ্চ গ্রেডগুলোতে এক লাফে হাজার হাজার টাকা মূল বেতন বাড়লেও, নিম্ন গ্রেডগুলোতে পদোন্নতি বা গ্রেড পরিবর্তনের সুফল মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই নগণ্য ব্যবধান নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটের মুখে ফেলছে।
তুলনামূলক সارتী (বিশ্লেষণ)
| গ্রেডের তুলনা | প্রাথমিক মূল বেতনের ব্যবধান | শতাংশ হার (%) |
| গ্রেড ৬ ও গ্রেড ৭ | ১৮,০০০ টাকা | ২৩.৬৮% |
| গ্রেড ৯ ও গ্রেড ১০ | ১২,০০০ টাকা | ২৯.২৯% |
| গ্রেড ১০ ও গ্রেড ১১ | ৭,০০০ টাকা | ২১.৮৮% |
| গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২ | ৭০০ টাকা | ২.৮০% |
| গ্রেড ১২ ও গ্রেড ১৩ | ৬০০ টাকা | ১.২৩% |
| গ্রেড ১৩ ও গ্রেড ১৪ | ৫০০ টাকা | ২.০৮% |
| গ্রেড ১৬ ও গ্রেড ১৭ | ৫০০ টাকা | ২.২৮% |
| গ্রেড ১৮ ও গ্রেড ১৯ | ৫০০ টাকা | ২.০৮% |
| গ্রেড ১৯ ও গ্রেড ২০ | ৫০০ টাকা | ২.৮৮% |
কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মতে, গ্রেড পরিবর্তনের সাথে সাথে বেতনের এই নামমাত্র বৃদ্ধি (৫০০-৭০০ টাকা) মূলত প্রহসনমূলক। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলা দায়, সেখানে মাত্র কয়েক শ’ টাকা মূল বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে নিম্ন ও উচ্চ পদের কর্মচারীদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের খাদ আরও প্রশস্ত হচ্ছে।
উপসংহার: একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বেতন কাঠামোর এই অসামঞ্জস্য দূর করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন গ্রেডগুলোতে শতাংশের হার এবং টাকার অঙ্কের ব্যবধান যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত না করলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।



