আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ, ধাপে ধাপে বাড়বে মূল বেতন

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণের একটি বিস্তারিত নমুনা হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত বেতন থেকে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়া এবং পরবর্তী ধাপে কার্যকর মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। নথিতে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের ১০ম গ্রেডের একজন কর্মচারীকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণের ধাপগুলো দেখানো হয়েছে।

৩০ জুনের মূল বেতন থেকে শুরু হবে হিসাব

নমুনা হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গৃহীত মূল বেতন ধরা হয়েছে ৩১,৭৮০ টাকা। একই সময়ে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১৬,০০০ টাকা। ফলে এই দুই অঙ্কের পার্থক্য দাঁড়ায় ১৫,৭৮০ টাকা

এরপর ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ৩২,০০০ টাকা। বিদ্যমান মূল বেতন ও নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পার্থক্য যোগ করে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মোট মূল বেতন নির্ধারণের একটি ধাপ দেখানো হয়েছে ৪৭,৭৮০ টাকা হিসেবে।

১ জুলাই ২০২৬-এ পরবর্তী ধাপ

বিবরণী অনুযায়ী, ৪৭,৭৮০ টাকা নির্ধারণের পর নতুন পে-স্কেলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ৪৯,৭০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পে-স্কেলের ৯(২) ধারার ভিত্তিতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন ৫২,২০০ টাকা নির্ধারণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, নথির এই উদাহরণে নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শুধু পুরোনো মূল বেতনকে একটি নির্দিষ্ট হারে বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরোনো মূল বেতন, নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ, পার্থক্য এবং প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট—সবগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বেতন নির্ধারণের কাঠামো দেখানো হয়েছে।

বেতন পার্থক্যের ওপরও হিসাব দেখানো হয়েছে

নথির পরবর্তী অংশে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের মধ্যে পার্থক্য হিসাব করা হয়েছে। সেখানে পার্থক্য হিসেবে ২০,৪২০ টাকা দেখানো হয়েছে।

এরপর এই পার্থক্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে হিসাব করে ১০,২১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে এক ধরনের এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের হার বিবেচনা করা হবে।

এর ভিত্তিতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কার্যকর প্রাপ্য মূল বেতন ৪১,৯৯০ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

২০২৭ সালেও থাকবে আরেক দফা সমন্বয়

প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া ১ জুলাই ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে না। পরবর্তী পর্যায়েও মূল বেতন কার্যকর করার হিসাব রাখা হয়েছে।

নথিতে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য এক ধরনের এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য আরেক ধরনের হারে পার্থক্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে কার্যকর প্রাপ্য মূল বেতন ৪৭,০৯৫ টাকা দেখানো হয়েছে।

এছাড়া ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে ৫৪,৮০০ টাকা মূল বেতন প্রাপ্য হওয়ার আরেকটি ধাপ দেখানো হয়েছে। নথিতে এটিকে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০ম গ্রেডের কর্মচারীকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে

বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে ‘বেগম আশারাজা’ নামে একজন কর্মচারীকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২০১৫ সালের পে-স্কেলের ১০ম গ্রেডের কর্মচারী হিসেবে উল্লেখিত।

২০১৫ সালের পে-স্কেলে ১০ম গ্রেডের বেতনক্রম ছিল—

১৬,০০০–১৬,৮০০–১৭,৬৪০–১৮,৫৩০–১৯,৪৬০–২০,৪৮০–২১,৪৭০–২২,৫৫০–২৩,৬৮০–২৪,৮৭০–২৬,১২০–২৭,৪০০–২৮,৮১০–৩০,২৬০–৩১,৭৮০–৩৩,৩৭০–৩৫,০৮০–৩৬,৮০০–৩৮,৬৪০ টাকা।

অন্যদিকে ২০২৬ সালের পে-স্কেলে একই গ্রেডের বেতনক্রম দেখানো হয়েছে—

৩২,০০০–৩৩,৬০০–৩৫,৩০০–৩৭,১০০–৩৮,৯০০–৪০,৯০০–৪২,৯০০–৪৫,১০০–৪৭,৩০০–৪৯,৭০০–৫২,২০০–৫৪,৮০০–৫৭,৫০০–৬০,৪০০–৬৩,৪০০–৬৬,৬০০–৬৯,৯০০–৭৩,৪০০–৭৭,৩০০ টাকা।

এখান থেকেই বোঝা যায়, নতুন স্কেলে একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের সময় শুধু নতুন স্কেলের প্রথম ধাপ দেখলেই হবে না; বরং তার ৩০ জুনের মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট ধাপের অবস্থান বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।

বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি ভাতার বিষয়েও নথিতে আলাদা নির্দেশনা রয়েছে।

প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত তা প্রাপ্য হবে।

অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন পরিবর্তিত হলেও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও পুরোনো হিসাব বহাল রাখার কথা

চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, ধোলাই ভাতা, টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও নথিতে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসব ভাতা আগের হিসাব অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রাপ্য হবে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর মূল বেতন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের ভাতা একইভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে—এমনটি এই নমুনা বিবরণী থেকে বলা যাচ্ছে না। বরং ভাতার ক্ষেত্রে আলাদা কার্যকর সময়সীমা ও হিসাবের ভিত্তি রাখা হয়েছে।

বেতন ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত নমুনা হিসাব বিশ্লেষণ করলে ২০২৬ সালের বেতন নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—

প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারী যে মূল বেতন গ্রহণ করেছেন, সেটি হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

দ্বিতীয়ত, নতুন পে-স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, পুরোনো মূল বেতন ও নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের মধ্যকার পার্থক্য হিসাব করা হবে।

চতুর্থত, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পার্থক্যের অংশবিশেষ বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ রয়েছে।

পঞ্চমত, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন নির্ধারণের বিষয়টিও আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।

কর্মচারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই হিসাবটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন একই পদ্ধতিতে সরাসরি নতুন স্কেলের কোনো একটি ধাপে বসিয়ে দেওয়া হবে—বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং পুরোনো স্কেলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ, পার্থক্য, ইনক্রিমেন্ট এবং ধাপে ধাপে কার্যকর বেতনের হিসাব বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রকাশিত নমুনায় ১০ম গ্রেডের একজন কর্মচারীকে কেন্দ্র করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত একাধিক পর্যায়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। ফলে বাস্তবে বেতন ফিক্সেশনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, ৩০ জুনের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের তারিখ এবং নতুন পে-স্কেলের নির্ধারিত ধাপ সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপ

প্রকাশিত নথিটি মূলত ২০২৬ সালের পে-স্কেলে ম্যানুয়ালি বেতন ফিক্সেশন কীভাবে করা হবে তার একটি উদাহরণভিত্তিক নির্দেশনা তুলে ধরেছে। এতে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন থেকে শুরু করে ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের পরবর্তী ধাপের বেতন—সবগুলো পর্যায় দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রাপ্যতার বিষয়টিও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথির শিরোনাম অনুযায়ী এটি “জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী বিবরণী”, এবং এতে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬, তারিখ ১৭-০৯-২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

EXCELL FILE DOWNLOAD LINK: Pay Fixation Manually Bangladesh

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *