৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলেই, অক্টোবরে ফিক্সেশন হলে কীভাবে মিলবে ৩ মাসের বকেয়া?

নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই থেকে। কিন্তু নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় সেপ্টেম্বরের বেতন আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের নতুন স্কেলের প্রাপ্য অর্থ হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। ফলে অক্টোবরে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নতুন বেতন ও তিন মাসের বকেয়া ঠিক কীভাবে পাওয়া যাবে?

নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে সরকার জানিয়েছিল, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে গেজেট প্রকাশ ও নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে পে ফিক্সেশন। এ কারণেই সেপ্টেম্বরের মাসিক বেতন সরাসরি নতুন স্কেলে দেওয়া হচ্ছে না।

সেপ্টেম্বরের বেতন কেন পুরোনো স্কেলে?

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুসারেই সাবমিট ও পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনের পর নতুন বেতনের ভিত্তিতে পরবর্তী বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হবে।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে পাওয়া মানে সেপ্টেম্বরের নতুন স্কেলের প্রাপ্য অর্থ হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং নতুন স্কেলে প্রাপ্য অর্থ এবং পুরোনো স্কেলে ইতোমধ্যে পাওয়া অর্থের পার্থক্য হিসাব করে পরে সমন্বয় করার ব্যবস্থা থাকবে।

অক্টোবরে ফিক্সেশন হলে কী হবে?

এখানেই চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যদি অক্টোবর মাসে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই ও অনুমোদন করে, তাহলে নতুন বেতন নির্ধারণের ভিত্তিতে পরবর্তী বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে পুরোনো স্কেলে পাওয়া বেতন এবং নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতনের পার্থক্য হিসাব করা হবে।

সহজ সূত্রে বিষয়টি এমন—

তিন মাসের বকেয়া = (নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতন − পুরোনো স্কেলে পাওয়া বেতন) × ৩ মাস

তবে বাস্তব হিসাব শুধু মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। নতুন পে স্কেলের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, প্রযোজ্য ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট/নির্দেশনায় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারিত হবে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক

ধরা যাক, কোনো চাকরিজীবীর নতুন পে ফিক্সেশনের পর জুলাই থেকে প্রাপ্য বেতন পুরোনো ব্যবস্থার তুলনায় প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বেশি দাঁড়াল।

তাহলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তিন মাসে পার্থক্য হবে—

১০,০০০ × ৩ = ৩০,০০০ টাকা।

অর্থাৎ ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী ওই তিন মাসের ৩০ হাজার টাকা পার্থক্য বকেয়া হিসেবে সমন্বয়ের আওতায় আসবে।

তবে এটি শুধু বোঝানোর উদাহরণ। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রকৃত বকেয়া নির্ভর করবে তার ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, গ্রেড, নতুন স্কেলে নির্ধারিত ধাপ, প্রযোজ্য বাস্তবায়ন হার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধানের ওপর।

নতুন বেতন একবারে শতভাগ হবে কি?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত বেতন ও ৩০ জুনের বর্তমান বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ দেওয়া হবে; পরবর্তী সময়ে সেই অংশ আরও বাড়বে এবং পরবর্তীতে পূর্ণ কাঠামো কার্যকর হবে।

তাই “নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ হয়েছে মানেই পুরো বর্ধিত বেতন একবারে হাতে চলে আসবে”—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পে ফিক্সেশন হবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কিন্তু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে গেজেটে নির্ধারিত ধাপে বাস্তবায়নের বিধান প্রযোজ্য হবে।

পে ফিক্সেশন হবে অনলাইনে

নতুন ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনলাইন পে ফিক্সেশন। সরকারি কর্মচারীদের iBAS++-এর নির্ধারিত পে ফিক্সেশন ব্যবস্থায় তথ্য দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হবে।

তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হলে পরবর্তী যাচাইয়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে চাকরির রেকর্ড, বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই থেকে বকেয়া কেন হবে?

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬। ফলে নতুন স্কেলে কোনো কর্মচারীর যে বেতন ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য হয়েছে, সেটি এবং বাস্তবে পুরোনো স্কেলে যে বেতন পেয়েছেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সেটিই পরবর্তী সময়ে হিসাবের বিষয় হবে।

এ কারণে সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে হলেও জুলাই ও আগস্টের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের হিসাবও বাদ যাবে না।

তাহলে অক্টোবরে বেতন পেলে কী কী দেখতে হবে?

অক্টোবরে নতুন স্কেলে বেতন আসার পর সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা গুরুত্বপূর্ণ—

  1. নতুন মূল বেতন কত নির্ধারণ হয়েছে
  2. কোন গ্রেড ও ধাপে বেতন ফিক্সেশন হয়েছে
  3. জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া কত হিসাব হয়েছে
  4. নতুন স্কেলের কোন অংশ বা শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে
  5. বকেয়া অর্থ আলাদা বিল, পরবর্তী বেতন বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করা হয়েছে কি না
  6. iBAS++-এ বেতন নির্ধারণের তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে পাওয়ার কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জুলাই-সেপ্টেম্বরের নতুন স্কেলের প্রাপ্য অর্থ বাতিল হয়ে যাচ্ছে না। বরং নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্য হিসাব করে বকেয়া সমন্বয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গেই তিন মাসের সম্পূর্ণ বকেয়া নগদে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। বকেয়া কীভাবে, কোন তারিখে এবং কোন বিলের মাধ্যমে সমন্বয় হবে, সেটি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশনা ও হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

এক নজরে

বিষয়অবস্থা
নতুন পে স্কেল কার্যকর১ জুলাই ২০২৬
সেপ্টেম্বরের বেতন২০১৫ স্কেল অনুযায়ী
নতুন বেতন নির্ধারণঅনলাইন পে ফিক্সেশন
ফিক্সেশনের পরনতুন বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত
জুলাই–সেপ্টেম্বরপ্রাপ্য পার্থক্য হিসাব হবে
বকেয়ানিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় হবে
অক্টোবরের বেতনফিক্সেশন সম্পন্ন হলে নতুন কাঠামোর ভিত্তিতে দেওয়ার প্রক্রিয়া
তিন মাসের বকেয়া অক্টোবরেই একসঙ্গেচূড়ান্ত পরিশোধ-পদ্ধতি নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল

অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে পেলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন পে স্কেলের প্রাপ্য অর্থের হিসাব থাকবে। অক্টোবরের দিকে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে নতুন বেতন ও বকেয়া সমন্বয়ের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে—এটাই বর্তমান নির্দেশনার মূল কাঠামো।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *