১৬তম গ্রেড থেকে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ: ৩ ধাপে বেসিক ২৯,৪০০ টাকা হওয়ার হিসাব
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বা নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর পুরোনো বেতন থেকে নতুন কাঠামোয় পে-ফিক্সেশন কীভাবে হবে, তা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে পুরোনো মূল বেতন, নতুন স্কেলের ধাপ, ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট এবং ধাপে ধাপে বর্ধিত অংশ যোগ করে চূড়ান্ত বেতন কীভাবে নির্ধারিত হতে পারে—এটি অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গেজেট অনুযায়ী নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং পুরোনো স্কেল থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া হয়েছে।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—এখানে ‘৯ম পে-স্কেল’ বলতে নবম জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বোঝানো হয়েছে, ৯ম গ্রেড নয়। ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী নতুন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের অনুরূপ স্কেলেই বেতন নির্ধারণ করবেন।
ছবিতে দেখানো উদাহরণটি কী বলছে?
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একজন ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ধরা হয়েছে ১৩,৭৮০ টাকা। নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে ১৬তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ২১,৯০০ টাকা। নতুন গেজেটের প্রকাশিত তথ্যেও ১৬তম গ্রেডের বেতনসীমা ২১,৯০০ থেকে ৫২,৯০০ টাকা দেখানো হয়েছে।
এই উদাহরণে প্রথমে পুরোনো বেতনের সঙ্গে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের পার্থক্য বের করা হয়েছে।
১. ৩০ জুন ২০২৬-এর হিসাব
পুরোনো মূল বেতন:
১৩,৭৮০ টাকা
নতুন ১৬তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন:
২১,৯০০ টাকা
এরপর নতুন স্কেলের প্রাথমিক ধাপের সঙ্গে পুরোনো বেতনের পার্থক্য যোগ করে পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। গেজেটের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হলে প্রথমে সেই অতিরিক্ত অংশ নির্ণয় করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হয়; যোগফলের সমান ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
প্রদত্ত উদাহরণে:
১৩,৭৮০ − ৯,৩০০ = ৪,৪৮০ টাকা
এরপর—
২১,৯০০ + ৪,৪৮০ = ২৬,৩৮০ টাকা
অর্থাৎ ২৬,৩৮০ টাকা সমপরিমাণ ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপ হিসেবে ২৮,০০০ টাকা ধরা হয়েছে।
এখানেই মূল পে-ফিক্সেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি সম্পন্ন হয়।
২. ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম ধাপ
নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুনের পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য:
২৮,০০০ − ১৩,৭৮০ = ১৪,২২০ টাকা
অর্থাৎ নতুন স্কেলে পূর্ণ বেতন বৃদ্ধির অংশ দাঁড়াচ্ছে ১৪,২২০ টাকা।
তবে নতুন বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিধান রয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে এই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং—
১৪,২২০ × ৫০% = ৭,১১০ টাকা
পুরোনো মূল বেতন ১৩,৭৮০ টাকার সঙ্গে এই অংশ যোগ করলে:
১৩,৭৮০ + ৭,১১০ = ২০,৮৯০ টাকা
অর্থাৎ প্রদত্ত উদাহরণ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন দাঁড়ায় ২০,৮৯০ টাকা।
৩. দ্বিতীয় ধাপে কত হবে?
পরবর্তী পর্যায়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
১৪,২২০ টাকার ৭৫ শতাংশ:
১৪,২২০ × ৭৫% = ১০,৬৬৫ টাকা
এর সঙ্গে ৩০ জুনের পুরোনো মূল বেতন যোগ করলে—
১৩,৭৮০ + ১০,৬৬৫ = ২৪,৪৪৫ টাকা
অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ে এই উদাহরণে মূল বেতন হবে ২৪,৪৪৫ টাকা।
৪. তৃতীয় পর্যায়ে পূর্ণ বেতন
তৃতীয় পর্যায় থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল বেতন পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার কথা। প্রকাশিত গেজেটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন স্কেলের শতভাগ মূল বেতন এবং প্রযোজ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে।
প্রদত্ত উদাহরণে নির্ধারিত মূল বেতন:
২৮,০০০ টাকা
এরপর ১ জুলাই ২০২৭-এর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ধরা হলে—
২৮,০০০ × ৫% = ১,৪০০ টাকা
তাহলে—
২৮,০০০ + ১,৪০০ = ২৯,৪০০ টাকা
অর্থাৎ ছবিতে প্রদর্শিত হিসাব অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বেসিক বেতন ২৯,৪০০ টাকা হতে পারে।
এক নজরে পুরো হিসাব
| পর্যায় | হিসাব | বেসিক |
|---|---|---|
| ৩০ জুন ২০২৬ | পুরোনো মূল বেতন | ১৩,৭৮০ টাকা |
| নতুন স্কেলের প্রাথমিক ধাপ | ২১,৯০০ + পুরোনো বেতন-সংক্রান্ত পার্থক্য | ২৬,৩৮০ টাকা |
| পরবর্তী উচ্চতর ধাপ | নির্ধারিত ধাপ | ২৮,০০০ টাকা |
| ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | পার্থক্যের ৫০% কার্যকর | ২০,৮৯০ টাকা |
| ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ | পার্থক্যের ৭৫% কার্যকর | ২৪,৪৪৫ টাকা |
| ১ জুলাই ২০২৭ | পূর্ণ মূল বেতন | ২৮,০০০ টাকা |
| ২০২৭ সালের ইনক্রিমেন্টসহ | ২৮,০০০ + ১,৪০০ | ২৯,৪০০ টাকা |
কেন এই হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন পে-স্কেলে শুধু পুরোনো বেতনকে নির্দিষ্ট হারে বাড়িয়ে দিলেই চূড়ান্ত বেতন পাওয়া যাবে না। প্রথমে পুরোনো মূল বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর সেটি নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করে নতুন স্কেলের ধাপ নির্ধারণ করতে হবে। সমপরিমাণ ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ বিবেচনায় আসবে।
এরপর সেই নির্ধারিত নতুন বেতন এবং পুরোনো বেতনের পার্থক্যকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। ফলে কাগজে নির্ধারিত ২৮,০০০ টাকা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে হাতে পাওয়া কার্যকর মূল বেতন একই অঙ্ক নাও হতে পারে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের পর এখন এই ফিক্সেশন পদ্ধতিই সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। গেজেট অনুযায়ী নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ের বেতন পার্থক্য বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধানও রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: উপরের ২৯,৪০০ টাকার হিসাবটি প্রদত্ত ছবির নির্দিষ্ট উদাহরণ অনুসারে। প্রত্যেক ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন ২৯,৪০০ টাকা হবে—এমন নয়। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কার মূল বেতন কত ছিল, সেটি এবং সংশ্লিষ্ট ধাপ/ইনক্রিমেন্টের অবস্থার ওপর প্রকৃত পে-ফিক্সেশন নির্ভর করবে। গেজেটের নিয়মে এ কারণেই কর্মচারীভেদে নির্ধারিত বেতন আলাদা হতে পারে।


