আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

পেনশনারদের ফিক্সেশন প্রক্রিয়া ২০২৬: নতুন পে-স্কেলে পেনশন কীভাবে পুনর্নির্ধারণ হবে

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন পেনশন কীভাবে ফিক্সেশন বা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এখানে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মতো iBAS++-এ নতুন মূল বেতন ফিক্সেশন করার বিষয়টি নয়; পেনশনারের ক্ষেত্রে মূলত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের বিদ্যমান নিট পেনশনকে ভিত্তি করে নতুন কাঠামোয় নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

সরকারি পেনশন ব্যবস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পেনশন ক্যালকুলেটরেও ‘অবসরের তারিখে নিট পেনশনের পরিমাণ’ এবং ‘বর্তমান নিট পেনশন’ আলাদাভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।

১. প্রথমে যে তথ্যটি নিতে হবে—৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন

পেনশন ফিক্সেশনের প্রথম ধাপ হলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পেনশনার কত টাকা নিট পেনশন পাচ্ছিলেন, সেটি নির্ধারণ করা।

অর্থাৎ PPO-তে থাকা পুরোনো পেনশন, বিভিন্ন কর্তন, চিকিৎসা/অন্যান্য প্রযোজ্য সমন্বয় ইত্যাদি বিবেচনা করে ৩০ জুন ২০২৬-এর Net Pension বের করতে হবে।

উদাহরণ:

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিট পেনশন = ১০,৫৬১ টাকা

এই ১০,৫৬১ টাকাই পরবর্তী পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হবে।

পেনশন অফিসের তথ্যেও পেনশনারের তথ্যের মধ্যে ‘অবসরের তারিখে নেট পেনশন’ এবং ‘বর্তমান নেট পেনশন’ আলাদাভাবে সংরক্ষণের কথা রয়েছে।


২. এরপর নির্ধারণ করতে হবে পেনশনার কোন স্ল্যাবে পড়ছেন

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী পেনশনারকে সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবে ফেলতে হবে।

ছবিতে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, যেমন ১০,৫৬১ টাকা নিট পেনশন হলে সেটি ৯,০০১–২০,০০০ টাকার স্ল্যাবে পড়বে।

এই স্ল্যাব অনুযায়ী পূর্ণ নতুন পেনশন বৃদ্ধির হার যদি ৭৫% হয়, তাহলে—

বৃদ্ধির অঙ্ক = ১০,৫৬১ × ৭৫%

= ৭,৯২০.৭৫ টাকা

পূর্ণ বাস্তবায়নের পর হিসাব দাঁড়াবে—

১০,৫৬১ + ৭,৯২০.৭৫ = ১৮,৪৮১.৭৫ টাকা

অর্থাৎ পূর্ণ বৃদ্ধির পর নিট পেনশন আনুমানিক ১৮,৪৮২ টাকা হবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরো বৃদ্ধির অঙ্ক ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই একবারে যোগ হবে না—ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিধান থাকলে প্রতিটি পর্যায়ের প্রযোজ্য অংশ হিসাব করতে হবে।


৩. ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ফিক্সেশনের মূল হিসাব

পেনশনারদের ক্ষেত্রে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে:

নতুন পেনশন = পুরোনো নিট পেনশন + প্রযোজ্য নতুন বৃদ্ধির অংশ

অর্থাৎ ১০,৫৬১ টাকা নিট পেনশনের ক্ষেত্রে যদি পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক ৭,৯২০.৭৫ টাকা হয়, তাহলে প্রথম ধাপে ওই ৭,৯২০.৭৫ টাকার নির্ধারিত অংশ যোগ হবে।

উদাহরণ হিসেবে ৫০% ধরা হলে—

৭,৯২০.৭৫ × ৫০% = ৩,৯৬০.৩৭৫ টাকা

তাহলে প্রথম ধাপে—

১০,৫৬১ + ৩,৯৬০.৩৭৫ = ১৪,৫২১.৩৭৫ টাকা

অর্থাৎ আনুমানিক ১৪,৫২১ টাকা।

এটি একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত ফিক্সেশনে গেজেটের সংশ্লিষ্ট স্ল্যাব, কার্যকর তারিখ এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্ধারণ অনুসরণ করতে হবে।


৪. দ্বিতীয় ধাপে আবার পেনশন পুনর্নির্ধারণ

পরবর্তী ধাপে নতুন পেনশনের বর্ধিত অংশের আরও বেশি অংশ কার্যকর হবে।

অর্থাৎ ফিক্সেশনের ধারণাটি হবে—

৩০ জুনের নিট পেনশন → পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক নির্ধারণ → প্রথম ধাপের প্রাপ্য অংশ → দ্বিতীয় ধাপের প্রাপ্য অংশ → পূর্ণ বাস্তবায়ন।

এ কারণে পেনশনারের ক্ষেত্রে শুধু ‘নতুন পেনশন কত’ হিসাব করলেই হবে না। কোন তারিখ থেকে কত শতাংশ কার্যকর হয়েছে সেটিও হিসাবের অংশ।


৫. পেনশনারের ফিক্সেশনে কোন কোন তথ্য লাগতে পারে?

পেনশন পুনর্নির্ধারণের সময় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সামনে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

প্রয়োজনীয় মূল তথ্য

১. PPO নম্বর
২. পেনশনারের NID নম্বর
৩. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের নিট পেনশন
৪. বর্তমান মাসিক নিট পেনশন
৫. পেনশনের ধরন—

  • নিজ পেনশন
  • পারিবারিক পেনশন
    ৬. পেনশনারের জন্মতারিখ
    ৭. অবসরের তারিখ
    ৮. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেনশন/পরিবারের পেনশন সংক্রান্ত তথ্য
    ৯. ব্যাংক/EFT-সংক্রান্ত তথ্য
    ১০. সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের তথ্য।

সরকারি পেনশন অফিসের পেনশন ক্যালকুলেটরেও NID/স্মার্ট আইডি, EFT-তে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, অবসরের তারিখ এবং অবসরের সময়ের নিট পেনশনের তথ্য চাওয়া হয়।


৬. PPO-তে কী দেখতে হবে?

পেনশনারের ক্ষেত্রে PPO (Pension Payment Order) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

PPO থেকে পেনশনের মূল তথ্য যাচাই করে ৩০ জুন ২০২৬-এর প্রাপ্য নিট পেনশন নির্ধারণ করতে হবে।

পেনশন-সংক্রান্ত সরকারি ফরমে PPO নম্বর, PPO ইস্যুকারী হিসাবরক্ষণ অফিস, অবসরের সময়ের নিট পেনশন এবং বর্তমান নিট পেনশনের মতো তথ্য ব্যবহৃত হয়।

তাই ফিক্সেশন করার আগে PPO এবং সর্বশেষ পেনশন পেমেন্টের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।


৭. নিজের পেনশন ও পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে পার্থক্য

পেনশন ফিক্সেশনের সময় পেনশনটি নিজের অবসরজনিত পেনশন নাকি পারিবারিক পেনশন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি পেনশন অফিসে নিজ অবসর গ্রহণের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

তাই শুধু পেনশনের টাকার অঙ্ক দেখে ফিক্সেশন না করে PPO-তে পেনশনের ধরন যাচাই করা প্রয়োজন।


৮. অনলাইনে পেনশনের তথ্য যাচাই করা যাবে

বর্তমানে অফিস অব দ্য চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার (পেনশন অ্যান্ড ফান্ড ম্যানেজমেন্ট)-এর ওয়েবসাইটে পেনশন ক্যালকুলেটর রয়েছে।

সেখানে নিজের পেনশন বা পারিবারিক পেনশন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে হিসাব করা যায়।

এছাড়া পেনশন অফিসের ওয়েবসাইটে পেনশনার ভেরিফিকেশন এবং ব্যক্তিগত পেনশন তথ্য দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে।


৯. সবচেয়ে সহজ উদাহরণ

ধরা যাক—

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন = ১০,৫৬১ টাকা

এটি ৯,০০১–২০,০০০ টাকার স্ল্যাবে।

যদি পূর্ণ বৃদ্ধির হার ৭৫% হয়:

পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক:
১০,৫৬১ × ৭৫% = ৭,৯২০.৭৫ টাকা

পূর্ণ বাস্তবায়নের পর:
১০,৫৬১ + ৭,৯২০.৭৫
= ১৮,৪৮১.৭৫ টাকা

অর্থাৎ প্রায় ১৮,৪৮২ টাকা।

কিন্তু প্রথম ধাপে যদি পূর্ণ বৃদ্ধির ৫০% কার্যকর হয়:

প্রথম ধাপের বৃদ্ধি:
৭,৯২০.৭৫ × ৫০% = ৩,৯৬০.৩৮ টাকা

প্রথম ধাপে মোট:
১০,৫৬১ + ৩,৯৬০.৩৮
= ১৪,৫২১.৩৮ টাকা

পরবর্তী ধাপে প্রযোজ্য হার অনুযায়ী আরও বৃদ্ধি যোগ হবে।


পেনশনারদের জন্য মূল ফর্মুলা

ধাপ–১:
৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন বের করুন।

ধাপ–২:
নিট পেনশনের স্ল্যাব নির্ধারণ করুন।

ধাপ–৩:
সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের পূর্ণ বৃদ্ধির হার প্রয়োগ করুন।

ধাপ–৪:
পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক থেকে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন ধাপের প্রাপ্য শতাংশ নির্ধারণ করুন।

ধাপ–৫:
পুরোনো নিট পেনশনের সঙ্গে ওই ধাপের বৃদ্ধির অঙ্ক যোগ করুন।

ধাপ–৬:
পরবর্তী ধাপে নতুন করে প্রাপ্য অংশ যোগ করে পেনশন পুনর্নির্ধারণ করুন।

ধাপ–৭:
চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০০% প্রযোজ্য হলে পূর্ণ নতুন নিট পেনশন কার্যকর হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

পেনশনারের “ফিক্সেশন” বলতে কর্মরত চাকরিজীবীর Pay Fixation-এর মতো নতুন Basic Salary নির্ধারণ বোঝায় না। পেনশনারের ক্ষেত্রে মূলত বিদ্যমান নিট পেনশনকে নতুন পে-স্কেলের বিধান অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করাই মূল বিষয়। অর্থ বিভাগের সরকারি পেনশন বিধি ও পেনশন অফিসের নির্ধারিত ফরম/তথ্য কাঠামো এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গেজেট অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে নতুন নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পেনশন বৃদ্ধির হার স্ল্যাবভিত্তিক। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম ধাপ, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন নিট পেনশন কার্যকর হবে।

১. আগে স্ল্যাবটি বুঝে নিন

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনপূর্ণ বৃদ্ধির হার
৯,০০০ টাকা বা কম১০০%
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%
৪০,০০১ টাকা বা বেশি৫৫%

এই বৃদ্ধির হার ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের ওপর প্রযোজ্য।


২. তিন ধাপে ফিক্সেশনের নিয়ম

গেজেটের হিসাবে প্রথম ধাপে ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত—

  • ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন: মোট বৃদ্ধির ৫০%
  • ২০,০০১ টাকা ও তার বেশি: মোট বৃদ্ধির ৪০%

দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত—

  • ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত: মোট বৃদ্ধির ৭৫%
  • ২০,০০১ টাকা ও তার বেশি: মোট বৃদ্ধির ৭০%

আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন নিট পেনশন এবং বার্ষিক বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে।


৩. ১০,৫৬১ টাকা নিট পেনশনের সম্পূর্ণ হিসাব

ধরা হলো, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিট পেনশন ছিল:

১০,৫৬১ টাকা

এটি ৯,০০১–২০,০০০ টাকা স্ল্যাবে।

পূর্ণ নতুন পেনশন

বৃদ্ধির হার = ৭৫%

বৃদ্ধি = ১০,৫৬১ × ৭৫%

= ৭,৯২০.৭৫ টাকা

সুতরাং পূর্ণ নতুন নিট পেনশন:

১০,৫৬১ + ৭,৯২০.৭৫ = ১৮,৪৮১.৭৫ টাকা

অর্থাৎ প্রায় ১৮,৪৮২ টাকা।

ধাপে ধাপে

৭৫-এর ৭৫%১৬,৫০১.

৭৫-এর ১০০%১৮,৪৮১.৭৫

সময়হিসাবআনুমানিক নিট পেনশন
৩০ জুন ২০২৬পুরোনো পেনশন১০,৫৬১
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬১০,৫৬১ + ৭,৯২০.
৭৫-এর ৫০%১৪,৫২১.৩৮১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭১০,৫৬১ + ৭,৯২০.
৫৬
১
জুলাই ২০২৭ থেকে১০,৫৬১ + ৭,৯২০.

অর্থাৎ ১০,৫৬১ টাকা নিট পেনশনের ক্ষেত্রে পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রায় ১৮,৪৮২ টাকা হবে।


৪. বিভিন্ন পেনশনের উদাহরণ—এক নজরে

নিচের টেবিলটি সবচেয়ে সহজভাবে পুরো বিষয়টি বোঝাবে। এখানে প্রতিটি উদাহরণে ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

পুরোনো নিট পেনশনপূর্ণ বৃদ্ধির হারপূর্ণ নতুন নিট পেনশন১ জুলাই ২০২৬১ জানুয়ারি ২০২৭১ জুলাই ২০২৭
১০,০০০৭৫%১৭,৫০০১৩,৭৫০১৫,৬২৫১৭,৫০০
১০,৫৬১৭৫%১৮,৪৮২১৪,৫২১১৬,৫০২১৮,৪৮২
১৫,০০০৭৫%২৬,২৫০২০,৬২৫২৩,৪৩৮২৬,২৫০
২০,০০০৭৫%৩৫,০০০২৭,৫০০৩১,২৫০৩৫,০০০
২৫,০০০৬৫%৪১,২৫০৩১,৫০০৩৬,৩৭৫৪১,২৫০
৩০,০০০৬৫%৪৯,৫০০*৩৭,৮০০৪৪,৬৫০৪৯,৫০০*
৩৫,০০০৬০%৫৬,০০০৪৩,৪০০৫০,৭০০৫৬,০০০
৪০,০০০৬০%৬৪,০০০৪৯,৬০০৫৭,৮০০৬৪,০০০
৫০,০০০৫৫%৭৭,৫০০**৬১,০০০৬৯,২৫০৭৭,৫০০**

* এখানে সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের নির্ধারিত সীমা/সর্বোচ্চ-সীমা প্রযোজ্য হলে প্রকৃত ফিক্সেশন অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।
** ৪০,০০১ টাকা বা বেশি স্ল্যাবের সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা নির্ধারিত হওয়ায় ৫০,০০০ টাকার উদাহরণে সরল ৫৫% হিসাবের পরিবর্তে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ সীমা বিবেচনা করতে হবে।


৫. একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: শুধু শতাংশ দিয়ে সবসময় চূড়ান্ত অঙ্ক বের হবে না

এটি পেনশন ফিক্সেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গেজেটে বিভিন্ন স্ল্যাবের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—

পুরোনো নিট পেনশনবৃদ্ধির হারনতুন নিট পেনশনের সীমা
৯,০০০ বা কম১০০%১০,০০০–১৮,০০০
৯,০০১–২০,০০০৭৫%১৮,০০১–৩৫,০০০
২০,০০১–৩০,০০০৬৫%৩৫,০০১–৪৯,০০০
৩০,০০১–৪০,০০০৬০%৪৯,০০১–৬২,০০০
৪০,০০১ বা বেশি৫৫%৬২,০০১–৭০,২০০

অর্থাৎ পুরোনো নিট পেনশন × বৃদ্ধির হার করার পরও সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের ন্যূনতম/সর্বোচ্চ সীমা দেখতে হবে।


৬. তাহলে পেনশনার নিজে কীভাবে ফিক্সেশন করবেন?

ধাপ–১

সর্বশেষ পেনশন স্লিপ/PPO থেকে ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন বের করুন।

ধাপ–২

ওই অঙ্কটি কোন স্ল্যাবে পড়ছে তা নির্ধারণ করুন।

ধাপ–৩

স্ল্যাব অনুযায়ী পূর্ণ বৃদ্ধির হার প্রয়োগ করুন।

ফর্মুলা:

পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক = ৩০ জুনের নিট পেনশন × প্রযোজ্য বৃদ্ধির হার

ধাপ–৪

পূর্ণ নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করুন।

পূর্ণ নতুন পেনশন = পুরোনো নিট পেনশন + পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক

তবে সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

ধাপ–৫

২০২৬ সালের প্রথম ধাপে মোট বৃদ্ধির ৫০% বা ৪০% যোগ করুন।

ধাপ–৬

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মোট বৃদ্ধির ৭৫% বা ৭০% যোগ করুন।

ধাপ–৭

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণ নতুন নিট পেনশন কার্যকর হবে।


৭. ১০,৫৬১ টাকার ক্ষেত্রে খুব সহজ ভাষায়

পুরোনো পেনশন: ১০,৫৬১ টাকা

স্ল্যাব: ৯,০০১–২০,০০০

পূর্ণ বৃদ্ধির হার: ৭৫%

পূর্ণ বৃদ্ধির অঙ্ক: ৭,৯২০.৭৫ টাকা

পূর্ণ নতুন পেনশন: ১৮,৪৮১.৭৫ টাকা

তারপর—

জুলাই ২০২৬:
১০,৫৬১ + ৩,৯৬০.৩৮ = ১৪,৫২১.৩৮ টাকা

জানুয়ারি ২০২৭:
১০,৫৬১ + ৫,৯৪০.৫৬ = ১৬,৫০১.৫৬ টাকা

জুলাই ২০২৭:
১০,৫৬১ + ৭,৯২০.৭৫ = ১৮,৪৮১.৭৫ টাকা

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে পুরো বৃদ্ধির টাকা যোগ হচ্ছে না; বৃদ্ধির অঙ্কের নির্ধারিত অংশ যোগ হচ্ছে। গেজেটের এই ধাপভিত্তিক ব্যবস্থাই পেনশন ফিক্সেশনের মূল বিষয়।

অনলাইনে যাচাই

সরকারের Office of the Chief Accounts Officer, Pension and Fund Management-এর পেনশন ক্যালকুলেটরে নিজের পেনশন/পারিবারিক পেনশন, NID বা Smart ID, EFT-নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, অবসরের তারিখ ও অবসরের সময়ের নিট পেনশন দিয়ে হিসাব করার ব্যবস্থা রয়েছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *