পে স্কেল চার্ট ২০২৬ । নতুন পে স্কেলের ইনক্রিমেন্ট তালিকা দেখে নিন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নতুন স্কেলে মূল বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী ধাপগুলোতে ইনক্রিমেন্ট কীভাবে বাড়বে। প্রকাশিত পে স্কেল চার্টে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মূল বেতনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন পে স্কেলের ইনক্রিমেন্ট তালিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর শুধু নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন জানলেই হবে না; একজন কর্মচারী বর্তমানে যে ধাপে আছেন, পে-ফিক্সেশনের পর তিনি কোন ধাপে যাবেন এবং পরবর্তী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিতে কত টাকা পাবেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
চার্টে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি গ্রেডে একটি নির্দিষ্ট প্রারম্ভিক বেতন থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ইনক্রিমেন্ট ধাপ রাখা হয়েছে। ফলে একই গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ও পূর্ববর্তী মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে নতুন স্কেলে মূল বেতন ভিন্ন হতে পারে।
১ম ও ২য় গ্রেড
চার্ট অনুযায়ী ১ম গ্রেডে নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
২য় গ্রেডে প্রাথমিক মূল বেতন ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট ধাপে তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। ২য় গ্রেডের চার্টে একাধিক ধাপ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হিসাব দেখানো হয়েছে।
৩য় ও ৪র্থ গ্রেড
৩য় গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়েছে। এরপর ধারাবাহিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বেতন বাড়ার ধাপ রাখা হয়েছে।
৪র্থ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ টাকা। পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্ধারিত হারে মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—নতুন পে স্কেলে কোনো কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু গ্রেডের শুরুর বেতন নয়, ফিক্সেশনের পর প্রাপ্য ধাপটিও গুরুত্বপূর্ণ।
৫ম থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি
মাঝারি ও উচ্চ গ্রেডের ক্ষেত্রে চার্টে ধারাবাহিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে—
- ৫ম গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৮৬,০০০ টাকা
- ৬ষ্ঠ গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৭১,০০০ টাকা
- ৭ম গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৫৮,০০০ টাকা
- ৮ম গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৪৮,০০০ টাকা
- ৯ম গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৪৫,১০০ টাকা
- ১০ম গ্রেড: প্রাথমিক মূল বেতন ৩২,০০০ টাকা
তবে কোনো কর্মচারী নতুন স্কেলে ঠিক কত টাকা পাবেন, সেটি নির্ধারণ করতে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁর আহরিত মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেডের ফিক্সেশন বিধান বিবেচনা করতে হবে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট
নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের ক্ষেত্রেও চার্টে একাধিক ইনক্রিমেন্ট ধাপ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি ধাপে মূল বেতন কীভাবে বাড়বে, তা চার্টে ধারাবাহিকভাবে দেখানো হয়েছে।
চার্টের নিচের অংশে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০তম গ্রেডের বেতন ধাপগুলোও পৃথকভাবে দেওয়া আছে। ফলে নতুন স্কেলে একজন কর্মচারী তাঁর বর্তমান বেতন থেকে পরবর্তী ধাপে কীভাবে অগ্রসর হবেন, তা তুলনা করা সহজ হবে।
১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্ট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
নতুন পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনকে ভিত্তি ধরে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬-এর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ, পে-ফিক্সেশন এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকে একই বিষয় হিসেবে দেখলে হিসাবের ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে। প্রথমে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ এবং এরপর প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট যোগ করার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
নতুন স্কেলের পুরো বেতন একবারে কার্যকর—এমনটি নয়
এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির পূর্ণ সুবিধা এবং বাস্তবায়নের ধাপ এক জিনিস নয়। প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার কাঠামো রয়েছে; অন্যদিকে প্রাপ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট তার নিজস্ব নিয়মে হিসাব হবে।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি গ্রেডের “নতুন বেসিক” দেখেই সেটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর হাতে পাওয়া মোট বেতন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা, অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা এবং বাস্তবায়নের ধাপ আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
পে-ফিক্সেশনে কোন তথ্য প্রয়োজন
নতুন পে স্কেলে নিজের বেতন নির্ধারণ করতে সাধারণভাবে যেসব তথ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন
- বর্তমান গ্রেড
- বর্তমান বেতন ধাপ
- নতুন স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের ধাপ
- ১ জুলাই ২০২৬-এর প্রাপ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
- পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের কোনো প্রভাব আছে কি না
- নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট ধাপ
এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ব্যক্তিভেদে চূড়ান্ত বেসিক আলাদা হতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা
অনলাইনে বিভিন্ন “পে স্কেল ক্যালকুলেটর” ও অনানুষ্ঠানিক চার্ট প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের প্রকাশিত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-কেই ভিত্তি হিসেবে নেওয়া উচিত। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে আদেশটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।
সারকথা: নতুন পে স্কেলের ইনক্রিমেন্ট চার্ট থেকে একজন সরকারি কর্মচারী তাঁর গ্রেড অনুযায়ী সম্ভাব্য বেতনধাপ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে শুধু চার্টের শুরুর বেতন নয়—৩০ জুনের বর্তমান বেতন, ফিক্সেশন ধাপ এবং ১ জুলাইয়ের প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট—সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।




