পে ফিক্সেশন টাইম টেবিল ২০২৬: ‘আপনার অফিসের জন্য মডিউল এখনো চালু করা হয়নি’—যেসব অফিসে দেখাচ্ছে, করণীয় কী?
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ১ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও দেশের সব সরকারি অফিসের জন্য একই সময়ে iBAS++-এর পে ফিক্সেশন মডিউল চালু করা হয়নি। ফলে অনেক কর্মচারী iBAS++-এ প্রবেশ করে পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে “Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.” বার্তাটি দেখতে পাচ্ছেন।
বিশেষ করে সাভার, ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অফিসে ৭ অক্টোবরেও যদি এই বার্তা দেখা যায়, সেটিকে ব্যক্তিগত তথ্যের ভুল বা পে ফিক্সেশন বাতিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে ধাপে ধাপে সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে।
কেন পে ফিক্সেশন করা যাচ্ছে না?
iBAS++-এর স্ক্রিনে প্রদর্শিত বার্তাটির সরল অর্থ হলো—সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য পে ফিক্সেশন ফিচারটি এখনো রিলিজ করা হয়নি।
অর্থাৎ, কোনো কর্মচারী নিজের NID, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিলেও যদি সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য মডিউল সক্রিয় না থাকে, তাহলে তিনি অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে পারবেন না।
এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ বর্তমানে পে ফিক্সেশন কর্মচারীভিত্তিক নয়, বরং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের কার্যক্রম ও সিস্টেম রিলিজের ধাপ অনুযায়ী এগোচ্ছে। iBAS++-এর বর্তমান ব্যবস্থাতেও Pay Fixation-2026-এর জন্য সরকারি কর্মচারীদের আলাদা অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে।
২০২৬ সালের পে ফিক্সেশনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে পে ফিক্সেশন কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাপ্ত সময়সূচির সারাংশ হলো— Bangladesh Service Rules
| তারিখ | কার্যক্রমের আওতা |
|---|---|
| ১ অক্টোবর ২০২৬ | নির্ধারিত কেন্দ্রীয়/বিশেষ হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকার সংশ্লিষ্ট CAO/হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ৮ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO এবং রাজশাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট অফিস |
| ১২ অক্টোবর ২০২৬ | চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | নির্ধারিত অন্যান্য বিভাগ/অঞ্চলের হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | খুলনা ও বরিশালসহ পরবর্তী নির্ধারিত হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর পে ফিক্সেশন ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাভারের ক্ষেত্রে বিষয়টি কী?
সাভার ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। তাই সাভারের কোনো সরকারি কর্মচারী ৭ অক্টোবর iBAS++-এ ঢুকে যদি দেখেন—
“Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.”
তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের DAO/UAO পর্যায়ের অফিসগুলোকে ৮ অক্টোবরের ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাভারের নির্দিষ্ট কোনো অফিস ঠিক কোন সময়ে সিস্টেমে সক্রিয় হবে, তা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের সিস্টেম রিলিজের ওপর নির্ভর করবে। Bangladesh Service Rules
অতএব, ৭ অক্টোবর মডিউল না পাওয়া মানেই সাভারের পে ফিক্সেশন বন্ধ হয়ে গেছে—এমন নয়।
৮ অক্টোবর থেকে কি সবার পে ফিক্সেশন নিশ্চিতভাবে হবে?
এখানেও একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। সময়সূচিতে ৮ অক্টোবরকে ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO পর্যায়ের কার্যক্রমের ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও প্রতিটি কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট ঘণ্টা বা নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায় না।
তাই ৮ অক্টোবর সকালেই সবার অ্যাকাউন্টে মডিউল দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক হবে না।
সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য ফিচারটি সক্রিয় হওয়ার পর কর্মচারী পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন।
পে ফিক্সেশনের আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে
পে ফিক্সেশন চালু হলে সময় নষ্ট না করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর;
- জন্মতারিখ;
- মোবাইল নম্বর;
- বর্তমান পদবি;
- বর্তমান গ্রেড;
- বর্তমান মূল বেতন;
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
- পূর্বের পে ফিক্সেশনের তথ্য;
- পদোন্নতির তথ্য;
- উচ্চতর গ্রেডের তথ্য;
- টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেডের তথ্য, যদি প্রযোজ্য হয়;
- সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও অন্যান্য প্রমাণপত্র।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পে ফিক্সেশনের সময় NID, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বিদ্যমান মূল বেতনের মতো তথ্য দিতে হবে। পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অফিস আদেশ প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।
পূর্বের পে ফিক্সেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন পে স্কেলে শুধু বর্তমান মূল বেতন দিলেই সব ক্ষেত্রে হিসাব সম্পন্ন হবে না। কর্মচারীর পূর্বের বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ।
iBAS++-এর পে ফিক্সেশন ব্যবস্থায় কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতনসংক্রান্ত তথ্য, বর্তমান পদ, গ্রেড এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের তথ্য ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। iBAS++ Portal
বিশেষ করে যাদের চাকরিজীবনে—
পদোন্নতি → উচ্চতর গ্রেড → টাইম স্কেল → সিলেকশন গ্রেড → পুনঃনির্ধারণ
জাতীয় কোনো পরিবর্তন হয়েছে, তাদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পে ফিক্সেশন না হওয়ায় কি অক্টোবরের বেতন আটকে যাবে?
এখানে বিষয়টি নিয়ে অনেক কর্মচারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে পূর্ববর্তী মাসগুলোর বকেয়া অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাবেন এবং পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে The Daily Star-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন এবং প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কোন কর্মচারী কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা তার নতুন নির্ধারিত মূল বেতন, পুরোনো মূল বেতন এবং কার্যকর তারিখের ওপর নির্ভর করবে।
‘Feature not released’ দেখালে এখন কী করবেন?
যাদের iBAS++-এ এই বার্তা দেখাচ্ছে, তাদের জন্য করণীয় খুবই সহজ—
১. বার্তাটি দেখে বারবার নতুন করে তথ্য সাবমিট করার প্রয়োজন নেই।
২. NID বা জন্মতারিখ ভুল—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য মডিউল চালু হয়েছে কি না।
৩. অফিসের DDO/প্রশাসন শাখা এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের নোটিশ অনুসরণ করতে হবে।
৪. পে ফিক্সেশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পূর্বের ফিক্সেশনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।
৫. নির্ধারিত ধাপে অফিসের জন্য মডিউল চালু হলে iBAS++-এ প্রবেশ করে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।
সবার জন্য একই দিনে পে ফিক্সেশন নয়
২০২৬ সালের পে ফিক্সেশন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১ অক্টোবর মানেই সারা দেশের প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শুরু—এমন নয়।
iBAS++-এর Pay Fixation Sub-System-এ বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ অফিসকে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারি দপ্তরগুলোকেও পে ফিক্সেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। ৪ অক্টোবর প্রকাশিত একটি সরকারি নোটিশেও iBAS++ Pay Fixation Sub-System-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রেরণের কথা বলা হয়েছে।
ফলে কোনো কর্মচারীর স্ক্রিনে “This feature is not currently released for your office” লেখা আসা মূলত সংশ্লিষ্ট অফিসের সিস্টেম রিলিজের বিষয়—এটি নিজে থেকে পে ফিক্সেশন বাতিল, চাকরির তথ্য বাতিল বা নতুন বেতন পাওয়ার অযোগ্যতার প্রমাণ নয়।
শেষ কথা
সাভারসহ ঢাকা বিভাগের যেসব সরকারি কর্মচারী ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত iBAS++-এ পে ফিক্সেশন করতে পারছেন না, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকাশিত ধাপভিত্তিক সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO পর্যায়ের কার্যক্রম ৮ অক্টোবর থেকে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অফিসের মডিউল কখন সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সিস্টেম রিলিজের ওপর নির্ভর করবে। Bangladesh Service Rules
অর্থাৎ, “পে ফিক্সেশন হচ্ছে না” এবং “পে ফিক্সেশন করার সুযোগ এখনো চালু হয়নি”—এই দুইটি বিষয় এক নয়। আপনার স্ক্রিনে দ্বিতীয় বার্তাটি থাকলে মূলত অপেক্ষা করতে হবে সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য iBAS++ মডিউল চালু হওয়ার।



