পাসপোর্ট হারালে নতুন নিয়ম: প্রথমবার নেই জরিমানা, দ্বিতীয়বার থেকে ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি
বাংলাদেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিনষ্ট হলে পুনরায় পাসপোর্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনায় পাসপোর্ট হারানোর পর দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করা, নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা, পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা ডাটাবেজে হালনাগাদ করা এবং পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অপরিবর্তিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট প্রথমবার হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির বাইরে অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে পরবর্তী প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহার, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকি প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানোর পর কী করতে হবে, জিডি যাচাইয়ের সময়সীমা কত, বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারালে করণীয় কী এবং পরে পুরোনো পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া গেলে সেটি ব্যবহার করা যাবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে কেন নতুন নিয়ম?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট নথির বর্তমান অবস্থা হালনাগাদ রাখা এবং পুনঃইস্যুর আগে প্রয়োজনীয় যাচাই নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর, পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
পাসপোর্ট হারালে প্রথমেই যে কাজগুলো করতে হবে
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে আবেদনকারীকে একাধিক ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু পাসপোর্ট হারানোর কথা জানিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না।
১. অনলাইনে হারানোর রিপোর্ট করতে হবে
পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটলে প্রথমেই বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা বা স্ট্যাটাস হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি থানায় জিডি করার নির্দেশনাও রয়েছে। তাই একটি কাজ সম্পন্ন করে অন্যটি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
২. নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে
পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হওয়ার পর দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। পাসপোর্ট বিনষ্ট হওয়ার ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট ও প্রমাণাদি প্রস্তুত রাখতে হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট থানা জিডির সঠিকতা যাচাই করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।
তবে নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই প্রতিবেদন না পাওয়া গেলে আবেদনকারীকে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে না। জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন দাখিল বা গ্রহণ করা যাবে।
এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
৩. জিডির সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব
নতুন নির্দেশনায় শুধু জিডি গ্রহণ করেই প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হয়নি। জিডির তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদি যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টটি তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব না হলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর আগের পাসপোর্টটি Revoke করে নতুন পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করতে পারবে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট আটকে থাকলে সেটি উদ্ধার করা অসম্ভব হওয়ার পরিস্থিতিতে আইনসম্মতভাবে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে কত টাকা জরিমানা দিতে হবে?
নতুন পরিপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড ফির বিধান।
| পাসপোর্ট হারানো বা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা | অতিরিক্ত দণ্ড ফি |
|---|---|
| প্রথমবার | ০ টাকা |
| দ্বিতীয়বার | ১০,০০০ টাকা |
| তৃতীয়বার | ১০,০০০ টাকা |
| চতুর্থবার | ১০,০০০ টাকা |
| পরবর্তী প্রতিবার | ১০,০০০ টাকা |
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না, কিন্তু নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি দিতে হবে। একইভাবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করলেও নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট দ্বিতীয়বার হারিয়ে গেলে তাকে প্রযোজ্য পাসপোর্ট ফি এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে। তবে পাসপোর্টের ধরন, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন অনুযায়ী মূল ফি আলাদা হতে পারে।
এখানে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দণ্ড ফি—এটি মোট পাসপোর্ট ফি নয়।
নতুন পাসপোর্টে কী লেখা থাকবে?
হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর পর নতুন পাসপোর্টের ডেটাপেজে ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে:
“Previous Passport is Reported to be Lost”
এর অর্থ হলো, আগের পাসপোর্টটি হারানো হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ‘Lost’ বা ‘Revoked’ হিসেবে যথাযথভাবে হালনাগাদ করতে হবে।
এর ফলে নতুন পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের সময় আগের পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দৃশ্যমান থাকবে। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য গোপন রেখে একাধিক নথি ব্যবহার করার ঝুঁকি কমাতেও এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
হারানো পাসপোর্ট পরে খুঁজে পেলে কি ব্যবহার করা যাবে?
এ বিষয়ে নতুন পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি Revoke করা হলে পরে পাসপোর্টটি খুঁজে পেলেও পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না। একইভাবে সেটি দিয়ে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ থানায় এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে।
যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে।
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
সুতরাং, হারানো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও সেটিকে বৈধ ভ্রমণ দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। পাসপোর্টটি Revoke হয়ে গেলে সেটি দিয়ে ভ্রমণ না করে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে কী করবেন?
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হলে দেশে অবস্থানকারীদের মতোই নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন ‘Lost Circular’ জারির মাধ্যমে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো:
পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করা।
সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি প্রস্তুত রাখা।
পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য গোপন না করে সঠিক তথ্য প্রদান করা।
সংশ্লিষ্ট মিশন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে পুনঃইস্যুর আবেদন করা।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে দ্রুত রিপোর্ট করা জরুরি। কারণ পাসপোর্ট ছাড়া পরিচয় যাচাই, ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং দেশে ফেরার ব্যবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে।
পাসপোর্টের নাম, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা যাবে?
হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নিচের তথ্যগুলো আগের পাসপোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে:
আবেদনকারীর নাম
জন্মতারিখ
পিতার নাম
মাতার নাম
তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোনো বৈধ ভুল সংশোধনের সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রযোজ্য আইন, বিধি এবং অনুমোদিত তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধ সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
অর্থাৎ, শুধু পাসপোর্ট হারিয়েছে বলে নতুন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না। আবার প্রকৃতপক্ষে কোনো তথ্য ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
পাসপোর্ট আংশিক নষ্ট হলে কী হবে?
পাসপোর্ট আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং এর পরিচয় শনাক্ত করার মতো অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি জমা দেওয়ার ভিত্তিতে পুনঃইস্যু করা যাবে।
অন্যদিকে, পাসপোর্ট সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এখানে মূল পার্থক্য হলো, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ বিনষ্ট পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের মতো রিপোর্ট, যাচাই ও পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
পাসপোর্টের তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হালনাগাদ হবে
নতুন নির্দেশনায় হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া মাত্র স্পেশাল ব্রাঞ্চের Immigration Management System (IMS)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী INTERPOL-কে নোটিফিকেশন দেওয়াসহ বিধি অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর উদ্দেশ্য হলো, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহার ঠেকানো এবং সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তবে পরিপত্রে INTERPOL-কে প্রতিটি ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন দেওয়ার কথা বলা হয়নি; প্রয়োজন অনুযায়ী নোটিফিকেশন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর নতুন নিয়মে যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে
নতুন নির্দেশনার আলোকে পাসপোর্ট হারানো বা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় আবেদনকারীদের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
প্রথমত, পাসপোর্ট হারানোর পর দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট এবং থানায় জিডি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জিডির যাচাই প্রতিবেদন পেতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না পাওয়া গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে পুনঃইস্যুর আবেদন দাখিল বা গ্রহণ করা যাবে।
তৃতীয়ত, প্রথমবার হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড ফি নেই। পরবর্তী প্রতিবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির বাইরে ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
চতুর্থত, হারানো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও সেটি Revoke হয়ে গেলে আর ব্যবহার করা যাবে না।
পঞ্চমত, নতুন পাসপোর্টে আগের পাসপোর্ট হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে পুরোনো পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করা হবে।
ষষ্ঠত, নাম, জন্মতারিখ, পিতা ও মাতার নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। বৈধ সংশোধনের জন্য পৃথক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সপ্তমত, বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারালে অনলাইনে রিপোর্টের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনকে জানাতে হবে।
আগের নির্দেশনার পরিবর্তে নতুন পরিপত্র
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পরিপত্রে হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু বিষয়ে আগের নির্দেশনা ও আদেশগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এতে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়ায় অনলাইন রিপোর্টিং, থানার জিডি যাচাই, পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সামঞ্জস্য এবং অতিরিক্ত দণ্ড ফির বিষয়গুলো আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। পাসপোর্টের ধরন, ক্ষতির প্রকৃতি ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শেষ কথা
পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে সরকার এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত রিপোর্টিং, যথাযথ যাচাই এবং পাসপোর্টের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছে।
সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি অনলাইন রিপোর্ট, থানায় জিডি এবং পুরোনো পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।
তাই পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দেরি না করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে রিপোর্ট করা এবং পুনঃইস্যুর আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।


