৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

পেনশনারদের নতুন পে-ফিক্সেশনের তথ্য এখন মোবাইলেই, যেভাবে দেখবেন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত পেনশন

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন সংক্রান্ত তথ্য জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সামনে এসেছে। পেনশনাররা এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পেনশনসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি ফিক্সেশনের বিবরণও দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্য ও অ্যাপের প্রদর্শিত স্ক্রিনশট অনুযায়ী, Pensioner Verification অ্যাপের ‘পেনশন তথ্য’ বিভাগে ‘ফিক্সেশন’ নামে একটি পৃথক ট্যাব রয়েছে। এই ট্যাব ব্যবহার করে পেনশনাররা সংশ্লিষ্ট অর্থবছর নির্বাচন করে ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারবেন।

তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট পেনশনারের লাইফ ভেরিফিকেশন বা জীবন প্রত্যয়ন হালনাগাদ থাকতে হবে এবং পেনশনের অবস্থা ‘সক্রিয়’ থাকতে হবে।

পেনশনারদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সুবিধা?

জাতীয় বেতন স্কেল পরিবর্তনের পর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামোর আলোকে পেনশন পুনর্নির্ধারণের তথ্য জানা।

নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী পেনশনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ, সংশোধিত পেনশনের তথ্য এবং সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে পেনশনারদের আগ্রহ তৈরি হয়।

এতদিন অনেক পেনশনারকে পেনশনসংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হতো। মোবাইল অ্যাপে ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য দেখার সুবিধা থাকায় প্রয়োজনীয় বিবরণ যাচাই করা আরও সহজ হতে পারে।

তবে অ্যাপে কোনো ফিক্সেশন ট্যাব থাকা এবং সংশোধিত পেনশনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য সিস্টেমে হালনাগাদ ও অনুমোদিত হওয়ার ওপর প্রদর্শিত বিবরণ নির্ভর করতে পারে।

যেভাবে মোবাইল অ্যাপে পেনশন ফিক্সেশনের তথ্য দেখবেন

পেনশনারদের সুবিধার্থে অ্যাপ ব্যবহার করে ফিক্সেশনের তথ্য দেখার পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।

1. অ্যাপ ডাউনলোড করুন: প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের Google Play Store থেকে সরকারি Pensioner Verification অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন। পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও অ্যাপ ডাউনলোডের লিংক রয়েছে।

2. অ্যাপে প্রবেশ করুন: অ্যাপটি চালু করে নির্ধারিত স্থানে ১০ অথবা ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ১০ ডিজিটের ই-পিপিও (ePPO) নম্বর লিখুন। অ্যাপের সংশ্লিষ্ট সংস্করণে এনআইডি স্ক্যান করার সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যাবে।

3. পেনশন তথ্য নির্বাচন করুন: সফলভাবে প্রবেশ করার পর অ্যাপের মূল পৃষ্ঠায় ‘লাইফ ভেরিফিকেশন’, ‘যোগাযোগ’, ‘পেনশন তথ্য’ এবং ‘সচরাচর জিজ্ঞাসা’সহ কয়েকটি অপশন দেখা যাবে। সেখান থেকে ‘পেনশন তথ্য’ আইকনে ক্লিক করতে হবে।

4. ফিক্সেশন ট্যাবে যান: পরবর্তী পৃষ্ঠায় ‘পেনশন তথ্য’, ‘ফিক্সেশন’, ‘ইপিপিও’ এবং ‘ট্যাক্স রিপোর্ট’ নামে পৃথক ট্যাব পাওয়া যাবে। এখান থেকে ‘ফিক্সেশন’ নির্বাচন করতে হবে।

5. অর্থবছর নির্বাচন করুন: ফিক্সেশন ট্যাবে প্রবেশের পর ‘ফিসকাল বছর নির্বাচন করুন’ অপশনে ক্লিক করে প্রাসঙ্গিক অর্থবছর নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ২০২৬–২০২৭ অর্থবছর নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায় কি না যাচাই করতে পারেন।

6. ফিক্সেশনের বিবরণ যাচাই করুন: নির্বাচিত অর্থবছরের তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকলে তা প্রদর্শিত হওয়ার কথা। প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে নিজের পেনশন রেকর্ড মিলিয়ে দেখা উচিত।

সরকারি পেনশন ব্যবস্থাপনার প্রকাশিত নির্দেশিকাতেও এনআইডি ও ই-পিপিও নম্বর ব্যবহার করে অ্যাপে প্রবেশ এবং লাইফ ভেরিফিকেশনের পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে।

লাইফ ভেরিফিকেশন ও পেনশন সক্রিয় থাকা জরুরি

পেনশনারদের ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের আগে লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ এবং পেনশন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাইফ ভেরিফিকেশন হলো পেনশনভোগী জীবিত আছেন কি না, তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। সরকারি পেনশন ব্যবস্থায় নিয়মিত জীবন প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

কোনো পেনশনারের লাইফ ভেরিফিকেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বা পেনশন পেমেন্ট ব্লক থাকলে সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। সরকারি পেনশন পোর্টালে পেমেন্ট সক্রিয় নাকি ব্লক রয়েছে, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে ফিক্সেশনের সম্পর্ক

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ এবং অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন পুনর্নির্ধারণ দুটি পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামোর নির্ধারিত ধাপে মূল বেতন স্থির করা হয়। অন্যদিকে পেনশনারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসারে বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

সরকারি iBAS++ ব্যবস্থায় পেনশন ফিক্সেশন ও পেনশন সুবিধার হিসাব স্বয়ংক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের Strengthening Public Financial Management Program-এর প্রকাশিত তথ্যে ই-পিপিও, পেনশন হিসাব এবং ডিজিটাল পেনশন সেবার অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রমের জন্য iBAS++ Pay Fixation Sub-System সংক্রান্ত একটি নোটিশ ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে পেনশনারদের জন্য অ্যাপের ফিক্সেশন ট্যাবে ২০২৬ সালের সংশোধিত তথ্য সবার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে হালনাগাদ হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ফিক্সেশনের তথ্য না দেখালে কী করবেন?

কোনো পেনশনার অ্যাপে প্রবেশ করার পরও ফিক্সেশনের তথ্য দেখতে না পেলে প্রথমে নিজের এনআইডি ও ই-পিপিও নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না যাচাই করবেন।

এরপর লাইফ ভেরিফিকেশনের অবস্থা, পেনশন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকা এবং সঠিক অর্থবছর নির্বাচনের বিষয়টি পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করতে হবে।

এসব ঠিক থাকার পরও তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, অ্যাপে ফিক্সেশনের তথ্য না দেখা গেলেই পেনশনার নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তথ্য হালনাগাদ, অনুমোদন অথবা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও সংশ্লিষ্ট বিবরণ প্রদর্শিত না হতে পারে।

পেনশনসংক্রান্ত সমস্যায় যোগাযোগ করবেন কোথায়?

সরকারি ওয়েবসাইট: pension.gov.bd

পেনশন হটলাইন: ০৯৬০৯ ০০০ ৫৫৫

পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে অ্যাপের মাধ্যমে লাইফ ভেরিফিকেশন এবং সমস্যা হলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে।

পেনশনারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ফিক্সেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-পিপিও নম্বর কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

পেনশন পুনর্নির্ধারণের তথ্য, কার্যকারিতার তারিখ, বকেয়া এবং সংশোধিত পেনশনের পরিমাণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি আদেশ ও অনুমোদিত পেনশন বিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে পেনশনারদের জন্য মোবাইল অ্যাপে ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য দেখার সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে বসেই নিজেদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের তথ্য যাচাই করার সুযোগ পেতে পারেন।

তাই সকল পেনশনারের উচিত Pensioner Verification অ্যাপে প্রবেশ করে ‘পেনশন তথ্য’ বিভাগের ‘ফিক্সেশন’ ট্যাব পরীক্ষা করা, লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ রাখা এবং পেনশন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কি না নিশ্চিত হওয়া।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *