প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা অনুমোদন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে একটি বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে এবারই প্রথম দেশের প্রথম থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান নিয়মের পরিবর্তন ও ডিজিটাল যুগের চাহিদা
এতদিন সরকারি বিধান অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অর্থাৎ পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরাই কেবল দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে মোবাইল ভাতা পেয়ে আসতেন। এর ফলে নিচের দিকের গ্রেডের লাখ লাখ কর্মচারী ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
তবে বর্তমান স্মার্ট বাংলাদেশ ও আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। সরকারি দাপ্তরিক কাজ, অনলাইন যোগাযোগ এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা এখন মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় বৈষম্য দূর করতে এই ভাতা সব গ্রেডের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন পে-স্কেলের অন্যান্য কল্যাণমূলক পদক্ষেপ
মোবাইল ভাতার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নবম জাতীয় পে-স্কেলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে:
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের (যেমন ৩,০০০ টাকা) বিশেষ ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেনশন বৃদ্ধি: কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সর্বস্তরের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা নিশ্চিত করার ফলে মাঠপর্যায়ের দাপ্তরিক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে এবং সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।



