জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: একই বেতন পেলেও গ্রেডভেদে ফিক্সেশনে বাড়বে বেতনের ব্যবধান, ১১–১৬ গ্রেডে নতুন হিসাবের সম্ভাবনা
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। একই পদমর্যাদার কাছাকাছি গ্রেডে কর্মরত কিংবা ভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমান মূল বেতন গ্রহণ করলেও নতুন বেতন স্কেলে ফিক্সেশনের পর তাঁদের মূল বেতন এক হবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড, ভাতা নির্ধারণ এবং বেতন কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতি পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে ‘কর্মচারীদের বেতনগ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
এই কমিটি ভবিষ্যতে বেতনগ্রেডের অসংগতি, গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন, সমতাকরণ এবং বিভিন্ন ভাতা সংযোজন বা পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করবে। ফলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই কমিটির সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই বেতন পেলেও ফিক্সেশনের পর গ্রেডভেদে বেতন আলাদা হতে পারে
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নতুন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে একই মূল বেতন থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হলে গ্রেডভেদে ভিন্ন অঙ্কের বেতন নির্ধারিত হওয়ার একটি সম্ভাব্য চিত্র সামনে আসছে।
বিষয়টি বোঝার জন্য একটি উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে।
ধরা যাক, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬তম গ্রেডের ছয়জন সরকারি কর্মচারীই ২১ হাজার টাকা করে মূল বেতন গ্রহণ করছেন।
এখন নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী যদি গ্রেডভিত্তিক পৃথক বেতন নির্ধারণের নিয়মে ফিক্সেশন করা হয়, তাহলে তাঁদের নতুন মূল বেতন এক হবে না। উদাহরণ হিসেবে সম্ভাব্য বেতন নির্ধারণের একটি হিসাব নিচে দেওয়া হলো।
১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের সম্ভাব্য বেতন ফিক্সেশন
নিচের হিসাবটি আলোচনার সুবিধার্থে দেওয়া কাল্পনিক উদাহরণ। এটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত বা নিশ্চিত বেতন নির্ধারণী তালিকা নয়।
| গ্রেড | ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন | উদাহরণস্বরূপ নতুন মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১১তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৩,৫০০ টাকা |
| ১২তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৪,০০০ টাকা |
| ১৩তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৪,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৪,৩০০ টাকা |
| ১৫তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৪,১০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,০০০ টাকা | ৩৩,৬০০ টাকা |
উপরের উদাহরণ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, পুরোনো স্কেলে ছয়টি গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন একই ২১ হাজার টাকা হলেও নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের পর তাঁদের মূল বেতন হবে ভিন্ন ভিন্ন।
এমন হিসাব কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের তুলনায় ১২ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন কিছুটা বেশি নির্ধারিত হতে পারে। অর্থাৎ পুরোনো বেতনের অঙ্ক এক হলেও নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, উল্লিখিত বেতনগুলো কেবল উদাহরণ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে এসব বেতন বা ফিক্সেশন সূত্র ঘোষণা করা হয়নি।
কেন একই বেতন থেকে ফিক্সেশনের পর বেতন আলাদা হতে পারে?
সরকারি বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন বিবেচনা করলেই হয় না। নতুন বেতন কাঠামোর সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত বেতন, ফিক্সেশন পদ্ধতি, বেতন বৃদ্ধির নিয়ম এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।
একই মূল বেতন গ্রহণ করলেও কর্মচারীদের গ্রেড আলাদা হলে নতুন কাঠামোয় তাঁদের বেতন নির্ধারণের ভিত্তি আলাদা হতে পারে।
এর ফলে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
1. নতুন বেতন স্কেলে প্রতিটি গ্রেডের জন্য নির্ধারিত মূল বেতন।
2. পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতনে রূপান্তরের নির্ধারিত সূত্র।
3. গ্রেডভিত্তিক বেতন সমন্বয়ের নিয়ম।
4. একই পদ বা সমপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনের ব্যবস্থা।
5. ফিক্সেশনের সময় বিদ্যমান ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য প্রযোজ্য সুবিধার হিসাব।
তবে নতুন বেতন স্কেলের চূড়ান্ত ফিক্সেশন বিধিমালা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো কর্মচারীর বেতন কত হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বেতনগ্রেড ও ভাতার অসংগতি পর্যালোচনায় সরকারের নতুন কমিটি
জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার মধ্যে সরকার নতুন একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির গঠন ও সদস্য কারা?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের তালিকা হলো—
| ক্রম | পদবি |
|---|---|
| ১ | মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় — সভাপতি |
| ২ | মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় — সদস্য |
| ৩ | মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় — সদস্য |
| ৪ | মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় — সদস্য |
| ৫ | মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় — সদস্য |
| ৬ | প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয় — সদস্য |
এ ছাড়া কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হয়েছে—
মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব।
অর্থ বিভাগের সচিব।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ কমিটিতে সচিব বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন।
কমিটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধিতে যা রয়েছে
নতুন এই কমিটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর অসংগতি এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ও পর্যালোচনার আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধি হিসেবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
১. বেতন স্কেলের অসংগতি নিরসন
বেতন স্কেলের বিভিন্ন অসংগতির বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতনসংক্রান্ত অসন্তোষ ও বৈষম্যের বিষয়গুলো পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
২. গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন ও সমতাকরণ
ভবিষ্যতে বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন এবং সমতাকরণ বিধানের বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মচারীদের মধ্যে পদমর্যাদা, দায়িত্ব এবং বেতনগ্রেড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অসংগতি ও দাবি রয়েছে।
কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হতে পারে।
৩. নতুন ভাতা চালু ও বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তন
প্রজ্ঞাপনে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য বিভিন্ন ভাতা নতুন করে প্রদান এবং বিদ্যমান ভাতার হার হ্রাস বা বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন কোনো ভাতা চালু করা, বিদ্যমান ভাতার পরিমাণ বাড়ানো কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
৪. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সুপারিশ
বেতন ও ভাতাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করেও কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করতে পারবে।
অর্থাৎ কমিটির কার্যপরিধি শুধু বেতনগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি কর্মচারীদের সামগ্রিক বেতন ও ভাতা কাঠামোর বিভিন্ন বিষয়ও এর আওতাভুক্ত।
১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি?
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এই গ্রেডগুলোর মধ্যে পদমর্যাদা, দায়িত্ব, নিয়োগের যোগ্যতা এবং বেতন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসংগতি ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশেষ করে একই মূল বেতন গ্রহণকারী ভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
নতুন কমিটির কার্যপরিধিতে বেতন স্কেলের অসংগতি নিরসন এবং গ্রেড সমতাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
তবে কমিটি এসব গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বেতন নির্ধারণ করবে, এমন সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই। কমিটির কাজ হচ্ছে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রদান করা।
নতুন বেতন ফিক্সেশনে কর্মচারীদের যেসব বিষয় জানা প্রয়োজন
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শুধু ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন দেখে নতুন বেতন নির্ধারণের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড ও সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বেতন কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতন নির্ধারণের চূড়ান্ত সূত্র ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।
ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সুবিধার হিসাব বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকারি নির্দেশনা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য বেতন তালিকাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে একই বেতন থেকে ফিক্সেশনের পর ভিন্ন মূল বেতন নির্ধারিত হওয়ার যে উদাহরণ আলোচনায় এসেছে, সেটি চূড়ান্ত সরকারি হিসাব নয়।
কমিটির সভা ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে?
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটি সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। অর্থাৎ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে কমিটির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কমিটিকে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, বেতনগ্রেড ও ভাতাসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন কোন দিকে?
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা চান, নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভিত্তিক অসংগতি দূর হোক এবং একই ধরনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের মধ্যে যৌক্তিক বেতন সমন্বয় নিশ্চিত করা হোক।
বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পুরোনো বেতনের অঙ্ক একই হলেও নতুন বেতন নির্ধারণের পর গ্রেডভেদে বেতনের পার্থক্য তৈরি হতে পারে কি না, সেটি এখন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সরকারের নতুন পর্যালোচনা কমিটি বেতনগ্রেডের অসংগতি, গ্রেড সমতাকরণ এবং ভাতার বিষয়গুলো নিয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব পাওয়ায় কর্মচারীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, কমিটির সুপারিশ এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বাস্তবায়ন ও বেতন ফিক্সেশন নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য নিরসন। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের একই মূল বেতন থাকা সত্ত্বেও নতুন স্কেলে ভিন্ন বেতন নির্ধারণের সম্ভাব্য হিসাবটি বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে।
অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপনে বেতনগ্রেডের অসংগতি নিরসন, গ্রেড উন্নীতকরণ, সমতাকরণ এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
এখন দেখার বিষয়, নতুন পর্যালোচনা কমিটি বেতন কাঠামোর বিদ্যমান অসংগতিগুলো চিহ্নিত করে কী ধরনের সুপারিশ প্রদান করে এবং সরকার সেই সুপারিশের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নতুন বেতন ফিক্সেশনের চূড়ান্ত নিয়ম, গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণের সূত্র এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করা।


