ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

শবে কদর ২০২৬ । রমজানে কদরের সরকারি ছুটি কবে?

২০২৬ সালে পবিত্র শবে কদর পালিত হতে পারে ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে (২৭ রমজান)। সেই অনুযায়ী, শবে কদরের সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে ১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার

তবে এবারের রমজানের সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আপডেট রয়েছে যা আপনার জন্য জানা গুরুত্বপূর্ণ:

  • ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার): শবে কদরের সরকারি ছুটি।

  • ১৮ মার্চ (বুধবার): সরকার নির্বাহী আদেশে এই দিনটিও সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এটি মূলত শবে কদর এবং পরবর্তী ঈদুল ফিতরের ছুটির মাঝখানের সময়টিকে সংযুক্ত করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

  • ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ: পবিত্র ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটি।

অর্থাৎ, শবে কদরের ছুটি থেকেই কার্যত টানা এক দীর্ঘ অবকাশ শুরু হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান ও ঈদের তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ধর্মীয় উৎসবের এই ছুটিগুলোও চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ১-২ দিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মহিমান্বিত এবং বরকতময় একটি রাত। আল-কুরআনের ভাষায় এই রাতটি ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’।

শবে কদর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

১. শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

  • কুরআন নাজিল: এই রাতেই মহান আল্লাহ তা’আলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেন।

  • হাজার মাসের সমান: সূরা আল-কদরে বলা হয়েছে, এই এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাস (প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে।

  • গুনাহ মাফ: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

  • ফেরেশতাদের আগমন: এই রাতে জিবরাঈল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং ইবাদতকারীদের জন্য রহমত ও শান্তি বর্ষণ করেন।

২. শবে কদর কবে?

শবে কদর ঠিক কোন তারিখে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে মহানবী (সা.) কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন:

  • রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) শবে কদর তালাশ করতে বলা হয়েছে।

  • অধিকাংশ আলেম ও ওলামাদের মতে, ২৭ রমজানের রাত (অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাত) শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি ১৬ মার্চ দিবাগত রাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. এই রাতের বিশেষ আমল

শবে কদরে নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা ইবাদত নেই, তবে নিচের আমলগুলো করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ:

  • নফল নামাজ: তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ এবং সাধারণ নফল নামাজ পড়া।

  • কুরআন তিলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করা।

  • বিশেষ দোয়া: আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এই রাতে কী দোয়া করবেন। রাসুল (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:

    আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি। (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)

  • তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৪. শবে কদরের আলামত

হাদিস শরিফে এই রাতের কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে:

  • রাতটি খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা হবে না (নাতিশীতোষ্ণ)।

  • পরদিন সকালে সূর্য উদিত হবে অনেকটা উজ্জ্বল ও স্নিগ্ধ হয়ে, যাতে কোনো তপ্ত রশ্মি থাকবে না।

  • আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করবে।

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সরকারি ছুটির তালিকায় আপনি যেহেতু একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে যুক্ত আছেন, তাই এই পবিত্র সময়ের দীর্ঘ ছুটিগুলো ইবাদত ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য দারুণ সুযোগ হতে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *