অনুপস্থিতি ও বিলম্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ২০২৬ । আইন ও বিচার বিভাগে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে?
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি আইন ও বিচার বিভাগের প্রশাসন শাখা-৫ থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর আলোকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
তিনটি বিষয়কে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ ঘোষণা
আদেশে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নিম্নোক্ত তিনটি কাজকে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে: ১. বিনা অনুমতিতে কর্মে অনুপস্থিতি। ২. বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ। ৩. বিলম্বে অফিসে উপস্থিতি।
কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়মাবলি
অফিসের কাজের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে আদেশে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে:
উপস্থিতির সময়: সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিটি কর্মদিবসে সকাল ৯.০০ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত হতে হবে।
অফিস ত্যাগের সময়: অফিস সময় শেষ হওয়ার আগে কেউ দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে পবিত্র রমজান মাসে বিকাল ৩.৩০ মিনিট এবং রমজান পরবর্তী সময়ে বিকাল ৫.০০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে প্রস্থান: যদি দাপ্তরিক বা কোনো জরুরি প্রয়োজনে অফিস চলাকালীন বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ প্রধানের (যুগ্মসচিব/সলিসিটর) অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত ‘অফিস ত্যাগের রেজিস্টার’-এ এন্ট্রি এবং ডিজিটাল হাজিরা প্রদান করে তবেই অফিস ত্যাগ করা যাবে।
লঙ্ঘনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন, দেরি করে আসেন বা আগেভাগে অফিস ত্যাগ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও শৃঙ্খলাতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এই আদেশের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারী উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯ কি বলে?
সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও উপস্থিতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। আপনার আপলোড করা ফাইল এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই বিধিমালার মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি: বিধি-৩ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বেতন কর্তন: বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ওই দিনের বা নির্দিষ্ট সময়ের মূল বেতন কর্তনের বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কর্মচারী ২ দিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকলে বিধি-৩ মোতাবেক তার ২ দিনের মূল বেতন কর্তন করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিলম্বে উপস্থিতি ও অফিস ত্যাগ: বিনা অনুমতিতে বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং অফিস সময়ের আগে দপ্তর ত্যাগ করাকেও এই বিধিমালার আওতায় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: এই বিধিমালা অনুযায়ী নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর আলোকে বিভাগীয় ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে প্রস্থান: যদি দাপ্তরিক বা জরুরি প্রয়োজনে অফিস চলাকালীন বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের (যেমন: অনুবিভাগ প্রধান) অনুমতি নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট রেজিস্টারে এন্ট্রি করতে হয়।
সংক্ষেপে, এই বিধিমালাটি সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে এবং অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি বা অফিস ত্যাগের প্রবণতা বন্ধ করতে কঠোর নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।



