পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের প্রতিবন্ধী সন্তানের পেনশন পাওয়ার সুযোগ কতটুকু? জানালেন সংশ্লিষ্টরা

নিচে উল্লিখিত তথ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সংবাদধর্মী প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো—

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের প্রতিবন্ধী সন্তানের পেনশন পাওয়ার সুযোগ কতটুকু? জানালেন সংশ্লিষ্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তানের পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না—এমন একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও পেনশনসংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে অবগতদের মতামত থেকে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিবন্ধী সন্তান পারিবারিক পেনশনের উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

জানা গেছে, একজন সরকারি চাকরিজীবী বা সামরিক বাহিনীর সদস্য অবসরে যাওয়ার পর মৃত্যুবরণ করলে তাঁর স্ত্রী সাধারণত পারিবারিক পেনশন ভোগ করেন। পরবর্তীতে স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে অথবা নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পেনশন বন্ধ হলে প্রতিবন্ধী সন্তান পেনশনের দাবিদার হতে পারেন, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি রেকর্ডে তাঁর নাম উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি জানান, যদি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির পেনশন নথি বা সহজীকরণ (Simplification) ফরমে সংশ্লিষ্ট সন্তানকে প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে পেনশন পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়। তবে এমন উল্লেখ না থাকলে অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে পেনশনভোগী স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট পেনশন মঞ্জুরী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানের বৈধ প্রতিবন্ধী সনদপত্র জমা দিতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা স্বীকৃত হলে এবং বিধি অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম পারিবারিক পেনশনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

তবে পেনশন বিষয়ক প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সংরক্ষিত নথি, অবসরের সময় দাখিলকৃত তথ্য এবং প্রচলিত বিধিমালার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

পেনশন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এ ধরনের ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ, প্রতিরক্ষা হিসাব নিয়ন্ত্রক দপ্তর অথবা সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বৈধ প্রতিবন্ধী সনদ এবং যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে প্রতিবন্ধী সন্তানের পারিবারিক পেনশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রচলিত বিধিমালা, সরকারি রেকর্ড এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *