অবসর-উত্তর ছুটি পেনশনযোগ্য চাকরিকাল নয়, তবে বহাল থাকবে অন্যান্য সুবিধা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-প্রস্তুতিমূলক ছুটি (এলপিআর), অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) এবং চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসর-প্রস্তুতিমূলক ছুটিকে অবসর-উত্তর ছুটিতে রূপান্তর করার কারণে পিআরএলকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে না। তবে এলপিআরকালীন প্রাপ্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পিআরএলকালেও বহাল থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি ১৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে জারি করা হয়।
পিআরএলকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে না
প্রজ্ঞাপনের প্রথম সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অবসর-প্রস্তুতিমূলক ছুটিকে (এলপিআর) অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) রূপান্তরের কারণে পিআরএলকাল পেনশনযোগ্য চাকরি হিসেবে গণনাযোগ্য হবে না।
অর্থাৎ একজন সরকারি কর্মচারী পিআরএলে থাকাকালীন যে সময় অতিবাহিত করবেন, সেই সময় তার মোট পেনশনযোগ্য চাকরিকালের সঙ্গে যুক্ত হবে না।
তবে প্রজ্ঞাপনে একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, অবসর-প্রস্তুতিমূলক ছুটিকালীন প্রাপ্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটিকালেও বহাল থাকবে।
ফলে পিআরএলকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বিধি অনুযায়ী এলপিআরকালীন অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
উদাহরণ দিয়ে অবসর, পিআরএল ও চূড়ান্ত অবসরের তারিখ নির্ধারণ
প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য একজন সরকারি কর্মচারীর জন্মতারিখ ধরে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ অনুযায়ী, ‘ক’ নামের একজন সরকারি কর্মচারীর জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬২। তার বয়সপূর্তির তারিখ, পিআরএল শুরু এবং চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ তিনটি পৃথক পরিস্থিতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রথম পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মচারীর ৫৯ বছর বয়স পূর্ণ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের পর থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করবেন।
দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে, ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে মঞ্জুরিকৃত অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল শুরু হবে অবসর গ্রহণের পরের দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে।
ওই কর্মচারী যদি ১২ মাস পিআরএল ভোগ করেন, তাহলে তার পিআরএল শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে এবং চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ হবে ১ জানুয়ারি ২০২২।
তৃতীয় পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী যদি অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল ভোগ না করেন, তাহলে তার চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০।
অবসর গ্রহণ ও চূড়ান্ত অবসরের তারিখ এক নয়
প্রজ্ঞাপনের ব্যাখ্যা থেকে দেখা যায়, সরকারি কর্মচারীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের তারিখ এবং চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ সব ক্ষেত্রে একই নাও হতে পারে।
কোনো কর্মচারীর বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তার ছুটি পাওনা থাকলে এবং কর্তৃপক্ষ পিআরএল মঞ্জুর করলে অবসর গ্রহণের পরের দিন থেকে পিআরএল শুরু হয়।
পিআরএল শেষ হওয়ার পরের দিনকে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, কোনো কর্মচারী পিআরএল ভোগ না করলে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারিখেই তার চূড়ান্ত অবসর কার্যকর হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রজ্ঞাপন
সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন নির্ধারণ, পিআরএল মঞ্জুরি, ছুটি নগদায়ন, অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা এবং চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি দেখা যায়।
বিশেষ করে পিআরএলে কাটানো সময় পেনশনযোগ্য চাকরিকালের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না এবং পিআরএল গ্রহণ করলে চূড়ান্ত অবসরের তারিখ কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, পিআরএলকালকে পেনশনযোগ্য চাকরিকালের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। তবে এলপিআর ব্যবস্থায় একজন কর্মচারী যেসব অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, সেগুলো পিআরএলকালেও বহাল থাকবে।
এ ছাড়া পিআরএল ভোগ করলে এবং না করলে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ কীভাবে পরিবর্তিত হবে, সেটিও উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, সরকারি কর্মচারীর পিআরএলকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে না। তবে এলপিআরকালীন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পিআরএলকালেও বহাল থাকবে। ছুটি পাওনা ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে অবসর গ্রহণের পরের দিন থেকে পিআরএল শুরু হবে এবং পিআরএল শেষ হওয়ার পরের দিন হবে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ।



