চাকরির আগে অর্জিত উচ্চতর ডিগ্রি কি সার্ভিস বুকে তোলা যায়? জানুন সঠিক নিয়ম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রায়ই জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির চেয়ে বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিতে যোগদানের সময় তা উল্লেখ করতে পারেননি বা চলমান ছিল বলে জানিয়েছিলেন, তারা প্রায়ই অফিস থেকে বাধার সম্মুখীন হন।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক জটিলতার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় এসেছে। অনেক শিক্ষক প্রশ্ন করছেন—চাকরির আগে অর্জিত ডিগ্রি কি এখন সার্ভিস বুকে তোলা সম্ভব?
পরিপত্রের নির্দেশনা কী বলে?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে জারিকৃত এক স্মারক (নং-৩৮.০০.০০০০.০০৮.১২.০০৭.১৬-৩৭৪) অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসমূহ সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্তকরণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে: ১. শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদানের সময় যে সকল সার্টিফিকেট জমা দেন তা সরাসরি সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত হবে। ২. যদি কোনো শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চাকরিরত অবস্থায় কোনো ডিগ্রি অর্জন করেন, তাও অন্তর্ভুক্ত হবে। ৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: অনেক শিক্ষক পড়াশোনা অবস্থায় চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং পরবর্তীতে তা সম্পন্ন করেছেন। আবার অনেকে অসচেতনতার কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করেননি। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকেও যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন, তবে উক্ত যোগ্যতা সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
বিএসসি ডিগ্রি কি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে?
যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা এইচএসসি চাওয়া হয় এবং আপনার বিএসসি ডিগ্রিটি যোগদানের আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে এটি আপনার অর্জিত যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে এবং সনদের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে এটি আপনার ব্যক্তিগত নথি ও সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট অফিস বাধ্য।
উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের নিয়ম
চাকরিতে থাকা অবস্থায় ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর ডিগ্রি (যেমন: এমএসসি বা অন্য কিছু) অর্জন করতে চাইলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান বিধি মোতাবেক, অনুমতি নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করলে পরবর্তীতে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় না।
আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে করণীয়
যদি কোনো অফিস সহকারী বা কর্মকর্তা বলেন যে এটি “দেওয়া যাবে না”, তবে তাদের কাছে লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ের উক্ত পরিপত্রটি (২৭ অক্টোবর ২০২০) প্রদর্শন করুন। এরপরও কাজ না হলে অফিস প্রধানের (যেমন: উপজেলা শিক্ষা অফিসার) সাথে সরাসরি কথা বলুন। যেহেতু মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট লিখিত নির্দেশনা রয়েছে, তাই এটি অন্তর্ভুক্ত না করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিপত্র তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২০।



