৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ডেমো গেজেট ফাঁস: ১ জুলাই থেকে কার্যকর, তিন ধাপে নতুন বেতন; ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অবশেষে আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত আদেশটির তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে

নতুন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নতুন বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে সরকারি কর্মচারীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন স্কেলের সুবিধা পেলেও নতুন বেতন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য প্রথমে আংশিক, পরে আরও বেশি এবং শেষ পর্যন্ত ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ হারে পাবেন। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের আওতায় বকেয়া পাওনার বিষয়টিও গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন

গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন পুনর্নির্ধারণের পর নতুন জাতীয় বেতনস্কেল এবং বর্তমান বেতনের পার্থক্যকে ‘বেতনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রথম ধাপে, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: নতুন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: ওই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ

বর্তমান বেতনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে পার্থক্যের ৭০ শতাংশ
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ

প্রদান করা হবে।

এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন বেতনস্কেলের পূর্ণ ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোর পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৭ একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।

বকেয়া পাওনার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা

গেজেটে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবে। ফলে নতুন স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হলেও আদেশ প্রকাশের পরবর্তী সময়ের জন্য হিসাব সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর আগে দেওয়া বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির সময় পর্যন্ত যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্য অবশ্য বিশেষ সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের হারে পাওয়ার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে ২০টি গ্রেডই থাকছে

গেজেটের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্তমান বেতনস্কেল বিলুপ্ত করে প্রতিটি বিদ্যমান স্কেলের বিপরীতে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর নিচের দিকে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে—

  • গ্রেড-৯: নতুন স্কেলের শুরু ৪৪,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১০: শুরু ৩২,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১১: শুরু ২৫,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১২: শুরু ২৪,৩০০ টাকা
  • গ্রেড-১৩: শুরু ২৪,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৪: শুরু ২৩,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-১৫: শুরু ২২,৮০০ টাকা
  • গ্রেড-১৬: শুরু ২১,৯০০ টাকা
  • গ্রেড-১৭: শুরু ২১,৪০০ টাকা
  • গ্রেড-১৮: শুরু ২১,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৯: শুরু ২০,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-২০: শুরু ২০,০০০ টাকা

অন্যদিকে উচ্চতর গ্রেডগুলোতেও নতুন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড-১-এর বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা

বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও নির্দিষ্ট

নতুন বেতনস্কেলে কারও বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

কোনও কর্মচারী যদি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই তাঁর বেতন নির্ধারণ করা হবে।

আর কেউ যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে তাঁর মূল বেতনের পার্থক্য বের করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। ওই হিসাবের সঙ্গে মিলে যায় এমন ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। গেজেটে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

একই পদে ৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেড

নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো উচ্চতর গ্রেড

গেজেটে বলা হয়েছে, কোনও স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ম বছরে পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন।

এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর কাজ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক থাকলে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে এই আর্থিক সুবিধা বেতনস্কেলের ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে এবং একই পদে সাধারণভাবে দুইবারের বেশি এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। যেসব কর্মচারী পূর্ববর্তী বেতনস্কেলেই একই পদে একাধিক সিলেকশন গ্রেড/টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে একই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন কিছু ‘ব্লকড’ পদে নির্দিষ্ট শর্তে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে পুরো কর্মজীবনে একই পদে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা তিনবার।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ হবে ১ জুলাই

নতুন আদেশে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই হবে সকল কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ।

নতুন স্কেলে প্রথমে বেতন নির্ধারণের পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন যোগদানকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি পেতে ন্যূনতম ৬ মাসের যোগ্য চাকরিকাল থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগে অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের বিধান

১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন সংশ্লিষ্ট পদের নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে।

তবে ৯ম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব স্কেলের কিছু পদে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের বিধান রাখা হয়েছে। এমবিবিএস, স্থাপত্য বা প্রকৌশল ডিগ্রি সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম যোগ্যতা হলে একটি অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রকৌশল/স্থাপত্য/ফিজিক্যাল প্ল্যানিং বা আইন বিষয়ে যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুটি অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের একটি অতিরিক্ত অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ক্যাডার পদে সুপারিশ না পেলেও পিএসসির সুপারিশে ৯ম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বেতন ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে।

পেনশনেও নতুন কাঠামো

নতুন বেতনস্কেলে শুধু কর্মরতদের বেতন নয়, অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও পুনর্নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

গেজেটের সারণি অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্তরে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে—

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনবৃদ্ধির হারনতুন সর্বনিম্ন নিট পেনশনসর্বোচ্চ নিট পেনশন
৯,০০০ টাকা পর্যন্ত১০০%১০,০০০ টাকা১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%১৮,০০১ টাকা৩৫,০০০ টাকা
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%৩৫,০০১ টাকা৪৯,০০০ টাকা
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%৪৯,০০১ টাকা৬২,০০০ টাকা
৪০,০০১ টাকা ও বেশি৫৫%৬২,০০১ টাকা৭০,২০০ টাকা

তবে যাঁরা ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭-এর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন বহাল রাখার বিধান রয়েছে।

পেনশনের ক্ষেত্রেও কর্মরতদের মতো ধাপে ধাপে নতুন সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০০০১ টাকা ও তার বেশি বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাবে প্রথম পর্যায়ে পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবে ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে; দ্বিতীয় পর্যায়ে তা যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে কার্যকর হবে।

বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন আসবে ২০২৮ সালে

নতুন আদেশে বাড়িভাড়া ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে নতুন হারে কার্যকর করা হয়নি। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, সেই হারেই সুবিধা পাবেন।

এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।

নতুন সারণিতে এলাকাভেদে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য হার সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে। যেমন—

  • গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত: মূল বেতনের ৬০%
  • একই স্তরে অন্যান্য নির্ধারিত এলাকায়: ৫০% ও ৪৫%
  • গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: এলাকাভেদে ৫০%, ৪০% ও ৩৫%
  • গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ৪৫%, ৩৫% ও ৩০%
  • গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব: ৪০%, ৩০% ও ২৫%

সরকারি বাসস্থানে বসবাসকারী কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না—এ বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা

নতুন আদেশে কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩,০০০ টাকা এবং ৫০ বছর ১ দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৪,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার হার আরও বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪,০০০ টাকা, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬,০০০ টাকা মাসিক চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য ভাতাতেও নির্ধারিত হার

নতুন বেতনস্কেল আদেশে বেশ কয়েকটি ভাতার হার স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ ভাতা: আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ

শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে এ ভাতা প্রাপ্য হবে।

টিফিন ভাতা: ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা

যাতায়াত ভাতা: সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৬০০ টাকা

মোবাইল ভাতা: ১ম থেকে ৫ম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা

কার্যভার ভাতা: মাসে ১,৫০০ টাকা

ধোলাই ভাতা: প্রযোজ্য কর্মচারীদের জন্য মাসে ৩০০ টাকা

প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: নিবন্ধিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এ ছাড়া পার্বত্য এলাকার জন্য পাহাড়ি ভাতা, হাওড়/দ্বীপ/চর এলাকার জন্য বিশেষ ভাতা এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিশেষ ভাতা পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ

এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মচারী এবং সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের ১১–২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বিদ্যমান বিশেষ ভাতা/বিশেষ গার্ড ভাতা/ক্ষতিপূরণ ভাতা/ঝুঁকি ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এই ২০ শতাংশ নতুন মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না; বরং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ভাতার অঙ্কের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ যোগ হবে।

পে-ফিক্সেশন হবে অনলাইনে, IBAS++-এ

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হলো অনলাইনে বেতন নির্ধারণ

গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ জারির পর সরকারি কর্মচারীদের IBAS++ সিস্টেমের Pay Fixation অপশনে প্রবেশ করে নির্ধারিত ছক পূরণ করতে হবে। গেজেটেড কর্মচারীরা IBAS++ লগইন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীরা NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP দিয়েও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

কর্মচারী তথ্য পূরণ করে DDO-এর কাছে সাবমিট করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন স্কেলে নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন প্রদর্শিত হবে। এরপর DDO তা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে যাচাই ও অনুমোদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Verification Number তৈরি হবে।

গেজেটে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্তভাবে যাচাইকৃত বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভিত্তিতেই বেতন পরিশোধ করা হবে। কম বা বেশি বেতন পরিশোধ হলে পরবর্তীতে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

২০১৫ সালের বেতন আদেশ রহিত

নতুন আদেশের মাধ্যমে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের আদেশের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বিধানগুলো নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে বহাল থাকবে।

সার্বিকভাবে কী দাঁড়াল?

নতুন গেজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ শুধু মূল বেতন বাড়ানোর আদেশ নয়; বরং বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়তা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল ভাতা এবং অনলাইন পে-ফিক্সেশন—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা হলো—১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন স্কেলের কার্যকারিতা, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে দ্বিতীয় ধাপের সুবিধা, ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ নতুন বেতন ও ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে অধিকাংশ ভাতা কার্যকর হওয়ার বিধান। ফলে কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা বুঝতে শুধু নতুন মূল বেতন দেখলেই হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, পে-ফিক্সেশন, পর্যায়ভিত্তিক পার্থক্য, উচ্চতর গ্রেড এবং ২০২৮ থেকে প্রযোজ্য ভাতার হার—সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সোর্স পিডিএফ লিংক

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *