বাসা । অফিস কক্ষ । ডরমেটরী বরাদ্দ

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: গ্রেডভেদে বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণ, ঢাকায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতার হার গ্রেড ও কর্মস্থলভেদে পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর সংযুক্ত ছক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, আর গ্রেড যত ওপরে উঠেছে, নির্ধারিত শতাংশ ধাপে ধাপে কমেছে।

নতুন ছকে সরকারি কর্মচারীদের চারটি গ্রেড-গুচ্ছে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মস্থলকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটির জন্য আলাদা বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

চার স্তরে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ছক অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণে মূলত তিন ধরনের এলাকা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—

১. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা
২. খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ নির্ধারিত সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকা
৩. অন্যান্য স্থান

গ্রেডভেদে এই তিন অঞ্চলের হারও আলাদা।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গ্রেডঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশননির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাঅন্যান্য স্থান
গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬মূল বেতনের ৬০%৫০%৪৫%
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০মূল বেতনের ৫০%৪০%৩৫%
গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫মূল বেতনের ৪৫%৩৫%৩০%
গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্বমূল বেতনের ৪০%৩০%২৫%

গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬: ঢাকায় ৬০ শতাংশ

নতুন ছকের প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কর্মচারীরা।

এই গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত হলে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন।

নির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট পৌর এলাকায় এ হার ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য স্থানে ৪৫ শতাংশ

অর্থাৎ এ গ্রুপের কর্মচারীদের জন্য তিন এলাকার মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

উদাহরণ

কোনো গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর কর্মচারীর মূল বেতন যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে—

  • ঢাকায় ৬০% = ১২,০০০ টাকা
  • নির্ধারিত সিটি/পৌর এলাকায় ৫০% = ১০,০০০ টাকা
  • অন্যান্য এলাকায় ৪৫% = ৯,০০০ টাকা

গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০: ঢাকায় ৫০ শতাংশ

দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত

এই শ্রেণির কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন।

নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় হার ৪০ শতাংশ, আর অন্যান্য স্থানে ৩৫ শতাংশ

ধরা যাক, এ শ্রেণির একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা। তাহলে বাড়ি ভাড়া ভাতা হবে—

  • ঢাকায়: ১৫,০০০ টাকা
  • নির্ধারিত সিটি/পৌর এলাকায়: ১২,০০০ টাকা
  • অন্যান্য এলাকায়: ১০,৫০০ টাকা

গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫: ঢাকায় ৪৫ শতাংশ

তৃতীয় স্তরে রয়েছে গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত

এই গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে—

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৫ শতাংশ
  • নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় ৩৫ শতাংশ
  • অন্যান্য স্থানে ৩০ শতাংশ

বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ এ পর্যায়ে মূল বেতনের ওপর ঢাকায় ৪৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারিত হয়েছে।

গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১: ঢাকায় ৪০ শতাংশ

চতুর্থ ও সর্বোচ্চ গ্রেড-গুচ্ছে রয়েছে গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব

এ শ্রেণির ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার—

  • ঢাকায় ৪০ শতাংশ
  • নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় ৩০ শতাংশ
  • অন্যান্য স্থানে ২৫ শতাংশ

অর্থাৎ উচ্চতর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশ কম রাখা হয়েছে।

মূল বেতন যত বাড়ে, বাড়ি ভাতার শতাংশ তত কম

নতুন ছকের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, গ্রেড যত উচ্চতর হয়েছে, বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশ তত কমেছে

গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর ক্ষেত্রে ঢাকায় হার ৬০ শতাংশ হলেও গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০-এ তা ৫০ শতাংশে নেমেছে। এরপর গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫-এ ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্বে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার হার যথাক্রমে ৫০, ৪০, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ। অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রে তা ৪৫, ৩৫, ৩০ ও ২৫ শতাংশ।

এতে বোঝা যায়, বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নির্ধারণে শুধু কর্মস্থলের অবস্থান নয়, কর্মচারীর গ্রেডও একটি প্রধান ভিত্তি

ঢাকার জন্য আলাদা কাঠামো

ছকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ফলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা তাদের গ্রেড অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন।

এখানে গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০-এর জন্য ৫০ শতাংশ, গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫-এর জন্য ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্বের জন্য ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

কোন কোন এলাকা দ্বিতীয় শ্রেণিতে?

দ্বিতীয় শ্রেণির কলামে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও পৌর এলাকার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকা।

এসব এলাকায় কর্মরতদের জন্য ঢাকা থেকে তুলনামূলক কম, কিন্তু অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়ি ভাতা হিসাব হবে মূল বেতনের ওপর

ছকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়ি ভাড়া ভাতার হার ‘মূল বেতনের’ শতাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই কোনো কর্মচারীর মোট বেতন, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা বা অন্যান্য ভাতা যোগ করে বাড়ি ভাড়া হিসাব করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট হার অনুযায়ী মূল বেতনকে ভিত্তি করেই বাড়ি ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা হলে গ্রেড ও কর্মস্থল অনুযায়ী ২৫ থেকে ৬০ শতাংশের হার প্রয়োগ করে বাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হবে।

একই মূল বেতনে কর্মস্থল বদলালে বাড়ি ভাতাও বদলাবে

নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একজন কর্মচারীর মূল বেতন একই থাকলেও কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বাড়ি ভাতার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে

যেমন, একই গ্রেড ও একই মূল বেতন নিয়ে একজন কর্মচারী ঢাকায় থাকলে যে হারে বাড়ি ভাতা পাবেন, নির্ধারিত সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় বদলি হলে ভিন্ন হার প্রযোজ্য হবে। আবার অন্যান্য এলাকায় গেলে আরেকটি হার কার্যকর হবে।

অর্থাৎ বাড়ি ভাতা নির্ধারণে গ্রেড + কর্মস্থল—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ

২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতার হিসাবের গুরুত্ব

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। ফলে বাড়ি ভাতার হিসাবও সংশ্লিষ্ট নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সময় এবং নতুন বাড়ি ভাতা কার্যকর হওয়ার সময় একই নয়, যদি গেজেটের পৃথক কার্যকর তারিখের বিধান প্রযোজ্য থাকে।

তাই বেতন নির্ধারণ বা বকেয়া হিসাব করার সময় শুধু নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন দেখলেই হবে না; বাড়ি ভাতা সম্পর্কিত কার্যকর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট বিধানও দেখতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংখ্যা

নতুন ছকটি সহজভাবে মনে রাখার জন্য ঢাকার ক্ষেত্রে চারটি গ্রেড-গুচ্ছের হার হলো—

গ্রেড-২০–১৬ → ৬০%
গ্রেড-১৫–১০ → ৫০%
গ্রেড-৯–৫ → ৪৫%
গ্রেড-৪–১ ও তদূর্ধ্ব → ৪০%

আর নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার ক্ষেত্রে—

৫০% → ৪০% → ৩৫% → ৩০%

এবং অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রে—

৪৫% → ৩৫% → ৩০% → ২৫%।

সারকথা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর বাড়ি ভাড়া ভাতার ছকে গ্রেডভেদে চারটি এবং কর্মস্থলভেদে তিনটি স্তর তৈরি করা হয়েছে। ফলে একই মূল বেতন হলেও গ্রেড ও কর্মস্থলের ওপর নির্ভর করে বাড়ি ভাতার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি হার রাখা হয়েছে গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬-এর কর্মচারীদের জন্য ঢাকায়—মূল বেতনের ৬০ শতাংশ। বিপরীতে গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্বের কর্মচারীদের অন্যান্য স্থানের জন্য হার ২৫ শতাংশ

অতএব, নতুন পে-স্কেলে কোনো সরকারি কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন কত হবে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মূল বেতন নয়—গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য বাড়ি ভাতা হার—তিনটিই একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি চাকুরি (বেতন ও ভাতিদি) আদেশ, ২০২৬

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *