৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: বিসিএস ক্যাডার ও নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণে গেজেটে যা বলা হয়েছে

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বিসিএস ক্যাডার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। গেজেটের অনুচ্ছেদ-১০-এর সংশ্লিষ্ট দফাগুলোতে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণ, নন-ক্যাডার কর্মচারীদের প্রারম্ভিক বেতন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ক্যাডার পদে নিয়োগ না পাওয়া, পরবর্তী সময়ে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া এবং নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ লাভ করা ব্যক্তিদের জন্য এসব বিধান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদ একই গ্রেডের হলেও সবার বেতন একই নিয়মে নির্ধারিত হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান, নিয়োগের ধরন এবং প্রযোজ্য শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণে বিশেষ বিধান

গেজেটের অনুচ্ছেদ-১০-এর দফা (২)-এ বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হিসেবে নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

ছবিতে দৃশ্যমান বিধান অনুযায়ী, বিসিএস ক্যাডার পদে নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেতন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর নবম গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিধানে উল্লিখিত অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণের সময় কেবল নবম গ্রেডের সাধারণ প্রারম্ভিক বেতন বিবেচনা করলেই হবে না; তাঁদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ বিধানও অনুসরণ করতে হবে।

তবে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, যোগ্যতার শর্ত এবং কার্যকর প্রয়োগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে গেজেটের মূল কপি ও সংশ্লিষ্ট তফসিল যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি দেখে সবার জন্য একই পরিমাণ অতিরিক্ত বেতন প্রযোজ্য বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার না পেলে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে?

গেজেটের অনুচ্ছেদ-১০-এর দফা (৩)-এ বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী, কিন্তু কোনো ক্যাডার পদে নিয়োগ না পেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বিষয়ে আলাদা বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবিতে দৃশ্যমান বিধান অনুসারে, এ ধরনের কর্মচারীদের বেতন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করতে হবে।

এই বিধানের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করলেই ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিশেষ সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং উদ্ধৃত দফায় নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, একই নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত হলেও বিসিএস ক্যাডার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিপিএসসির সুপারিশে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে বিধানগত পার্থক্য থাকতে পারে।

নন-ক্যাডার কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

১. নিয়োগটি বিপিএসসির সুপারিশক্রমে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

২. নিয়োগপত্রে উল্লিখিত পদ ও গ্রেডের তথ্য বিবেচনায় নিতে হবে।

৩. জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের বিধান অনুসরণ করতে হবে।

৪. সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিশেষ বিধান বা স্বতন্ত্র বেতন নির্ধারণের নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে।

৫. বেতন নির্ধারণের চূড়ান্ত হিসাব করার সময় সংশ্লিষ্ট গেজেট, নিয়োগপত্র এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

একই নবম গ্রেডে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনে পার্থক্য হতে পারে কেন?

সরকারি চাকরিতে একই গ্রেডের পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেই প্রত্যেকের বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি অভিন্ন হবে, এমন নয়। কোনো নির্দিষ্ট বেতনস্কেলে সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি বিশেষ বিধান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিয়োগের ধরন ও প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হয়।

এখানে গেজেটের উদ্ধৃত দুটি দফার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

বিসিএস ক্যাডার পদে নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দফা (২)-এ অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ক্যাডার পদে নিয়োগ না পেয়ে বিপিএসসির সুপারিশে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে দফা (৩)-এ নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু গ্রেডের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তাঁদের নিয়োগের ধরন এবং গেজেটের প্রযোজ্য দফা অনুসরণ করা জরুরি।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ

গেজেটের অনুচ্ছেদ-১০-এর দফা (৪)-এ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত একটি বিধান রয়েছে।

প্রদত্ত ছবিতে দৃশ্যমান ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে বর্তমান বেতন, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন এবং এ দুইয়ের পার্থক্য সমন্বয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অনুচ্ছেদ ১(গ)-এর বিধান অনুসরণের কথাও রয়েছে।

তবে এ দফায় যোগদানের তারিখসংক্রান্ত যে শর্তটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তার ভাষ্য ও প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য মূল গেজেটের সম্পূর্ণ পাঠ যাচাই করা প্রয়োজন। তাই শুধু ছবির ভিত্তিতে এই বিধানের আওতাভুক্ত প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট বেতন বা আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ঘোষণা করা সমীচীন হবে না।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে কী যাচাই করতে হবে?

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, নিয়োগের তারিখ: সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কোন তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং কখন যোগদান করেছেন, তা যাচাই করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রযোজ্য বেতনস্কেল: জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদ ও গ্রেডের বেতন কত, তা নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, বর্তমান বেতন: বিধানে বর্তমান বেতন বিবেচনার শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন বেতনকে বর্তমান বেতন হিসেবে গণ্য করা হবে, তা মূল গেজেট অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।

চতুর্থত, বেতন পার্থক্য সমন্বয়: গেজেটে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে প্রযোজ্য বেতন পার্থক্য কীভাবে যোগ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে হিসাব করতে হবে।

পঞ্চমত, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন: বেতন নির্ধারণের হিসাব চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

বেতন নির্ধারণে কর্মচারীদের করণীয়

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সময় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন ভুলভাবে নির্ধারিত হলে পরবর্তী সময়ে বেতন সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে শুরুতেই সঠিকভাবে বেতন নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগের ধরন এবং তাঁদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সুবিধার বিধান যাচাই করতে হবে। অন্যদিকে, বিপিএসসির সুপারিশে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে গেজেটের দফা (৩)-এ উল্লেখিত প্রারম্ভিক ধাপের বিধান বিবেচনায় নিতে হবে।

যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দফা (৪)-এর সম্পূর্ণ ভাষ্য এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ১(গ) যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, বেতন নির্ধারণী বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা একসঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

উপসংহার

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ-১০-এর দৃশ্যমান বিধান অনুযায়ী, বিসিএস ক্যাডার পদে নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিপিএসসির সুপারিশে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য বিধানে উল্লিখিত অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির সুবিধার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট নন-ক্যাডার কর্মচারীদের বেতন নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণের বিধান উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের জন্যও পৃথক বিধান রয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী কত টাকা বেতন পাবেন, তা নির্ধারণের জন্য শুধু গ্রেডের নাম যথেষ্ট নয়। নিয়োগের ধরন, নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ, প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিধান এবং মূল গেজেটের সম্পূর্ণ পাঠ যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *