পদনাম পরিবর্তনে বড় সিদ্ধান্ত: স্টেনোগ্রাফার পদ বিলুপ্তির পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং দাপ্তরিক কাজের ধরনে পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সরকারি দপ্তরের ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’সহ স্টেনোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট পদগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় মনে করছে, বর্তমান যুগে স্পিচ-টু-টেক্সট বা সরাসরি রেকর্ডিং প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় আলাদাভাবে ‘সাঁটলিপি’র (Shorthand) প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মূল পর্যবেক্ষণ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পর্যালোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছে:
প্রযুক্তির প্রভাব: বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বক্তার বক্তব্য সরাসরি রেকর্ডিং করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। ফলে সনাতন পদ্ধতিতে হাতে লিখে নোট নেওয়ার বা স্টেনোগ্রাফির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে গেছে।
কার্যকারিতা হ্রাস: মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান সচিবালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর বা পরিদপ্তরগুলোতে স্টেনোগ্রাফির ব্যবহার কার্যত আর নেই বললেই চলে।
পদ একীভূতকরণ: কাজের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যাওয়ায় ‘সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ বা ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদগুলোকে আলাদাভাবে না রেখে অন্য পদের সাথে একীভূত (Merge) করা যেতে পারে।
কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন?
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসময় দ্রুত গতিতে বক্তব্য লিখে নেওয়ার জন্য সাঁটলিহি বা শর্টহ্যান্ড ছিল অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল ভয়েস রেকর্ডার এবং উন্নত কম্পিউটার সফটওয়্যারের কারণে এই দক্ষতার গুরুত্ব কমেছে। এখন একজন কম্পিউটার অপারেটরই প্রযুক্তির সহায়তায় সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে পদের নাম পরিবর্তন বা একীভূত করা হলে প্রশাসনিক কাঠামো আরও গতিশীল হবে।
দাপ্তরিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ অধিশাখা থেকে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (০৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) এই মতামত প্রদান করা হয়। যার স্মারক নম্বর: ৩৮.০০.০০০০.০০০.০২.১৮.০০০৩.২৩.৭১০। উপ-সচিব মো: শামছুল আরিফ স্বাক্ষরিত এই মতামতটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সুপারিশের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারি চাকুরির কাঠামোতে বড় ধরণের প্রশাসনিক সংস্কার আসবে এবং সংশ্লিষ্ট পদগুলোর নাম ও কাজের পরিধি আধুনিকায়ন করা হবে।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক পত্র (এপ্রিল ২০২৬)



