পূর্ণ মন্ত্রীর ক্ষমতাধারীর তালিকা ২০২৬ । কে কোন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পেলেন চলুন জেনে নিই
দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মাধ্যমে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করল দলটি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার ২৫ জন সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন
শপথ গ্রহণ শেষে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। ২৫ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয় ঘটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রীদের তালিকা ও মন্ত্রণালয় নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রম | নাম | নির্ধারিত মন্ত্রণালয় |
| ১ | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় |
| ২ | আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী | অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় |
| ৩ | সালাহউদ্দিন আহমদ | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| ৪ | ইকবাল হাসান মাহমুদ | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ৫ | মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৬ | ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন | মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ৭ | ড. খলিলুর রহমান | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট) |
| ৮ | আব্দুল আউয়াল মিন্টু | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় |
| ৯ | কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ১০ | মিজানুর রহমান মিনু | ভূমি মন্ত্রণালয় |
| ১১ | নিতাই রায় চৌধুরী | সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ১২ | খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির | বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় |
| ১৩ | আরিফুল হক চৌধুরী | শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ১৪ | জহির উদ্দিন স্বপন | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
| ১৫ | মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ | কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় |
| ১৬ | আফরোজা খানম (রিতা) | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
| ১৭ | শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি | পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ১৮ | আসাদুল হাবিব দুলু | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় |
| ১৯ | মো. আসাদুজ্জামান | আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ২০ | জাকারিয়া তাহের | গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| ২১ | দীপেন দেওয়ান | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ২২ | আ ন ম এহসানুল হক মিলন | শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| ২৩ | সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ২৪ | ফকির মাহবুব আনাম | ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় |
| ২৫ | শেখ রবিউল আলম | সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় |
উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী শপথ
বঙ্গভবনের চার দেয়ালের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে (দক্ষিণ প্লাজা) এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল গতানুগতিক ধারার চেয়ে আলাদা। শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের সেবায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভায় দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে ক্ষমতাবান মন্ত্রী কে?
সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামো এবং প্রটোকল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীই সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি। তবে আপনার দেওয়া তালিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে প্রধানমন্ত্রীর পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ৩ জন মন্ত্রীকে এভাবে চিহ্নিত করা যায়:
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (সবচেয়ে সিনিয়র)
তাকে এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ:
রাজনৈতিক অবস্থান: তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং দলের দুর্দিনের কান্ডারি।
মন্ত্রণালয়: তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (LGRD) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি বাংলাদেশের বাজেটের দিক থেকে অন্যতম বড় এবং তৃণমূল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর মন্ত্রণালয়।
২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনা)
যেকোনো সরকারের চালিকাশক্তি হলো অর্থ। তিনি অর্থ এবং পরিকল্পনা—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট প্রণয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা করার কারণে তার হাতে বিশাল প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকবে।
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র)
দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত ক্ষমতাধর ভূমিকা পালন করবেন।
সংক্ষেপে: প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবেন।



