বাজেটে পে-স্কেলের বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত, গেজেট প্রকাশে দেরি হলে আগস্টের বেতনে বাড়তি বেতন নাও মিলতে পারে
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। এই বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে সরকারি গেজেট প্রকাশ অপরিহার্য হওয়ায় এখন সবার নজর সেই গেজেটের দিকেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন কার্যকর হয়ে যায় না। নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে সরকারকে গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং সেখানে কার্যকর হওয়ার তারিখ, বেতন কাঠামো, ইনক্রিমেন্ট, ভাতা, বেতন নির্ধারণ (Pay Fixation) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নির্দেশনা উল্লেখ থাকবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আইবাস (iBAS++) ও পে-রোল সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্পন্ন করবে।
গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলে কী হতে পারে?
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, জুলাই মাসের মাঝামাঝি—বিশেষ করে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে অধিকাংশ দপ্তরের জন্য আগস্ট মাসের বেতন নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী প্রস্তুত করা কঠিন হতে পারে। কারণ সরকারি বেতন প্রস্তুতের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার হালনাগাদ, বেতন নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন সম্পন্ন করতে হয়।
এ কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলে আগস্ট মাসে আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হতে পারে এবং নতুন বেতন পরবর্তী মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
বকেয়া বেতন পাওয়ার সুযোগ থাকবে
যদি সরকার জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে এবং গেজেটে কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যকর তারিখ থেকে বকেয়া বেতন (Arrear) পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সে ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ দপ্তর বেতন পুনর্নির্ধারণ করে জুলাই মাস থেকে কার্যকর হওয়া পার্থক্য হিসাব করবে এবং এককালীন বা ধাপে ধাপে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হতে পারে। অতীতেও নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলমান
অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CGA) এবং আইবাস (iBAS++) ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট ইউনিট নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। গেজেট প্রকাশের পর দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ, পে-ফিক্সেশন এবং বেতন প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন পর নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে নতুন বেতন কবে থেকে হাতে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করছে গেজেট প্রকাশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম কত দ্রুত সম্পন্ন হয় তার ওপর।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
উল্লেখ্য, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক গেজেটই হবে চূড়ান্ত আইনগত ভিত্তি। গেজেট প্রকাশের আগে নতুন বেতন, গ্রেডভিত্তিক বেতনহার, ভাতা কিংবা বকেয়া প্রদানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। গেজেটে যেভাবে কার্যকারিতা, বেতন কাঠামো ও অন্যান্য নির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও সেভাবেই নির্ধারিত হবে।


