৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উঠছে নবম পে-স্কেল ২০২৬ : দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ, বাড়ছে মূল বেতন

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পেশ করার জন্য অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, যদি কোনো কারণে আগামী মন্ত্রিসভায় এটি উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, তবে তার পরের সপ্তাহের সভায় যেন তা অবশ্যই পেশ করা হয়, সেই মর্মে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কমিটির সুপারিশগুলো আগের সভাতেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। গতকালের অতিরিক্ত সভাটি মূলত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু কারিগরি দিক সুরাহা করার জন্য ডাকা হয়েছিল। এখন অর্থমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়ার পরপরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

দুই ধাপে বাস্তবায়ন ও কার্যকরের সময়সীমা

দেশের বর্তমান রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কমিটি নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। সুপারিশ অনুযায়ী:

  • চলতি অর্থবছর: কেবল বর্ধিত ‘মূল বেতন’ কার্যকর হবে।

  • আগামী অর্থবছর: মূল বেতনের সাথে ‘ভাতা’ প্রদান শুরু হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দুই ধাপের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।

নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অষ্টম পে-স্কেলের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল—২০১৫ সালের জুলাইয়ে তা কার্যকর হলেও কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন হাতে পেয়েছিলেন ওই বছরের ডিসেম্বরে।

গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার

বেসামরিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য সুপারিশকৃত বেতন কাঠামো পরীক্ষা ও সমন্বয় করে এই সমন্বিত প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে নিচের দিকের গ্রেডের কর্মচারীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার আভাস মিলেছে:

  • ১ থেকে ১০ গ্রেড: মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বা তার চেয়ে কিছুটা কম বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

  • ১১ থেকে ২০ গ্রেড: এই স্তরের কর্মচারীরা গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির আশা করতে পারেন।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পে-স্কেল চালু হলে বর্ধিত বেতনের সঙ্গে এই মহার্ঘ ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করা হবে।

বাজেট বরাদ্দ ও সরকারের ব্যয়

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকার বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশনের পেছনে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এই খাতে সরকারের রাষ্ট্রীয় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *