শিক্ষানবিশ দিয়ে বাইক চালালেই ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, হেলমেটে ১০ হাজার: ট্রাফিকে কঠোর ব্যবস্থা
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা উপকরণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই শুধু লার্নার (শিক্ষানবিশ) কার্ড নিয়ে কিংবা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে নেমে পড়ছেন বহু চালক। ট্রাফিক পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোনো চালক যদি মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লার্নার দিয়ে বাইক চালান, তবে আইনের ৬৬ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অন্যদিকে, রাইডার কিংবা পিছনের আরোহী (পিলিয়ন)—যেকোনো একজনের হেলমেট না থাকলেও ধার্য করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
আইন না মানলে কোন অপরাধে কত শাস্তি:
লাইসেন্সহীন চালক: ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত বাইক চালালে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের জেল।
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যানবাহন: নাম্বার প্লেট বা বৈধ ফিটনেস/রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইক নামালে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
হেলমেট না পরা: চালক কিংবা পেছনের আরোহী—কারো হেলমেট না থাকলে প্রতি ক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
উল্টো পথে যান চলাচল: উল্টো লেনে বাইক চালালে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা।
চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার: বাইক চালানো অবস্থায় ফোনে কথা বললে ৫,০০০ টাকা জরিমানা।
ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “অনেকের ধারণা লার্নার কার্ড দেখলেই মামলা থেকে ছাড় পাওয়া যাবে। কিন্তু লার্নার কেবল নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে শেখার জন্য, এটি পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স নয়। তাছাড়া পেছনের আরোহীর হেলমেট না থাকাও মারাত্মক অপরাধ। আমরা মূল লক্ষ্য হিসেবে জরিমানা করাকে নয়, বরং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিচ্ছি।”
সড়কে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি ঝামেলা ও জরিমানা এড়াতে বাইক চালকদের লাইসেন্সের মূল কপি, ডিজিটাল কার্ড বা ই-লাইসেন্স কপি এবং চালক ও আরোহী উভয়ের সার্টিফাইড হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



