সচিবালয়ে পদ একীভূতকরণ ও পদোন্নতির নতুন নির্দেশনা: বিলুপ্ত হতে পারে স্টেনোগ্রাফি পদ
তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে সরকারি দপ্তরে দাপ্তরিক কাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন পদের একীভূতকরণ এবং পদোন্নতির নতুন নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাবনা ও মতামত তুলে ধরা হয়।
১. পদ একীভূতকরণের প্রস্তাব
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে হাতে লেখা বা ‘শর্টহ্যান্ড’ (সাঁটলিপি) পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে। ভয়েস রেকর্ডিং এবং সরাসরি কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ থাকায় সাঁটলিপিকার পদের আলাদা অস্তিত্ব রাখার আর যৌক্তিকতা নেই।
নির্দেশনা অনুযায়ী:
১৩তম গ্রেডের পদসমূহ: ‘সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর’ এবং ‘সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদগুলোকে সাধারণ ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদের সাথে একীভূত করা যেতে পারে।
১৬তম গ্রেডের পদসমূহ: ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ এবং ‘ডেটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর’ পদগুলোকেও একই কাতারে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন (১৬তম থেকে ১০ম গ্রেড)
প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতির ধাপগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে ভিন্ন ভিন্ন গ্রেড থেকে একই পদে পদোন্নতির যে জটিলতা ছিল, তা নিরসনে নতুন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
ধাপভিত্তিক পদোন্নতি: ভিন্ন ভিন্ন গ্রেড থেকে একই পদে পদোন্নতির বিধান না রেখে ধাপে ধাপে পদোন্নতির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১৬তম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেড বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপে পদোন্নতির বিধান রাখা সমীচীন বলে মত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ফিডার পদ নির্ধারণ: পদোন্নতির যোগ্য হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘ফিডারকাল’ নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদি পদোন্নতি প্রত্যাশীদের সংখ্যা পদের তুলনায় অনেক বেশি হয়, তবে ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডের পদের জন্য আলাদা ফিডারকাল নির্ধারণ করা হবে।
৩. কেন এই পরিবর্তন?
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব খন্দকার মনোয়ার মোরশেদ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সচিবালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে সাঁটলিপির (Stenography) ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং জনবল কাঠামোকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার
এই সিদ্ধান্তের ফলে সচিবালয়ের নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সাঁটলিপিকার হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদের দক্ষতা এখন থেকে সরাসরি কম্পিউটার ও আইটি ভিত্তিক কাজে প্রয়োগ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করলে সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।




