সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা, অমান্য করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেতিবাচক পোস্ট, কটূক্তি এবং অপপ্রচার চালিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক মাহবুব আইরিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয় (স্মারক নং: ৩৮.০১.০০০০.১১০.০৯.০০২.২০২৬-১১৯৬)।
পরিপত্রের মূল বিষয়সমূহ:
নির্দেশিকা লঙ্ঘন: পরিপত্রে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)” সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কতিপয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার নেতিবাচক পোস্ট, কটূক্তি এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা এই নির্দেশিকার পরিপন্থী।
অসদাচরণের শামিল: সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা দপ্তরের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিজনক পোস্ট কিংবা শেয়ার করার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন এবং “অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কড়া নজরদারি ও মনিটরিং: শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। এই কমিটিগুলোকে প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি সভা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক অধিদপ্তরকে অবহিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ: পরিপত্রে দেশের সকল বিভাগীয় উপপরিচালককে (প্রাথমিক শিক্ষা) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যেসকল শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদেরকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।
মাঠ প্রশাসনকে কড়া বার্তা
এই নির্দেশনার অনুলিপি দেশের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও), পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের (টিইও) পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠ পর্যায়ে এর কঠোর প্রতিফলন নিশ্চিত করা যায়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কঠোর নির্দেশনার ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে এবং যেকোনো ধরণের সরকার-বিরোধী বা উসকানিমূলক পোস্ট প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে।
(তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জারিকৃত অফিসিয়াল পরিপত্র, ১৮ জুন ২০২৬)



