সারাদেশের শহর ও গ্রামে খেলার মাঠ নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন
সারাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নির্ধারণ, সংরক্ষণ এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই বিশেষ গেজেট অনুযায়ী, দেশের শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠের সংকট দূর করাই এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য।
কমিটির গঠন কাঠামো
মোট ১০ সদস্যের এই শক্তিশালী কমিটিতে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
আহ্বায়ক: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
সদস্যবৃন্দ: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; উপদেষ্টা জনাব মাহদী আমিন; এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ (স্থানীয় সরকার, গৃহায়ন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ)।
সদস্য-সচিব: সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বা মেয়ররা এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধি ও লক্ষ্য
প্রকাশিত গেজেটে কমিটির জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে:
১. মাঠ চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়ন: সিটি কর্পোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠের বর্তমান অবস্থা চিহ্নিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ করা। ২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন: বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠকে খেলার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সুপারিশ প্রদান। ৩. আয়োজন ও অর্থায়ন: বছরব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন নিশ্চিত করা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। ৪. জনসম্পৃক্ততা: স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ।
বিশেষ ক্ষমতা ও কার্যকারিতা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে ‘কো-অপ্ট’ বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণের ফলে বর্তমানে খেলার মাঠের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, এই কমিটির সঠিক তদারকির মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে মাঠ নির্ধারণের উদ্যোগটি গ্রামীণ ক্রীড়া কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।



