১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ: ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ ভাতার নিয়ম ও হিসাব
সরকারি চাকুরিজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে প্রশিক্ষণের সময় প্রাপ্য ভ্রমণ ভাতা (TA), দৈনিক ভাতা (DA) এবং প্রশিক্ষণ ভাতা (Training Allowance) নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘ভ্রমণ ভাতা বিধিমালা ২০২২’ কার্যকর হওয়ার পর হিসাবের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে খুলনায় ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণে আসা ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে এই ভাতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।
ভ্রমণ ভাতা (TA Bill) ও যাতায়াত নিয়ম
ভ্রমণ বিধিমালা ২০২২ অনুযায়ী, ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসের নন-এসি এবং ট্রেনের সুলভ বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রকৃত ভাড়া প্রাপ্য হন। নারায়ণগঞ্জ থেকে খুলনা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তার মূল কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদানের জন্য ১টি যাতায়াত ভাড়া এবং প্রশিক্ষণ শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার জন্য ১টি যাতায়াত ভাড়া বিল আকারে জমা দিতে পারবেন।
দৈনিক ভাতার (DA) জটিল হিসাব
বিধিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের সাথে দৈনিক ভাতার হ্রাসের নিয়ম। ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা খুলনা বা ঢাকার মতো বিভাগীয় শহরের জন্য দৈনিক ৩০০ টাকা হারে ডিএ (Daily Allowance) পেয়ে থাকেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের ক্ষেত্রে হিসাবটি নিম্নরূপ:
প্রথম ৩০ দিন: পূর্ণ হারে অর্থাৎ ৩০০ টাকা করে মোট ৯,০০০ টাকা।
পরবর্তী ৬০ দিন: অর্ধেক হারে অর্থাৎ ১৫০ টাকা করে মোট ৯,০০০ টাকা।
৯০ দিনের পরবর্তী সময়: বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য কোনো দৈনিক ভাতা প্রাপ্য নয়।
অর্থাৎ, ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণে একজন কর্মচারী মোট ১৮,০০০ টাকা দৈনিক ভাতা হিসেবে দাবি করতে পারেন।
প্রশিক্ষণ ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা
প্রশিক্ষণ ভাতা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জিও (Government Order) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। যদি প্রশিক্ষণটি আবাসিক হয় এবং সেখানে সরকার বা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে, তবে এই ভাতার হার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা কমতে পারে।
বিল দাখিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রশিক্ষণ শেষে ২৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার পর বিল উত্তোলনের জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে: ১. প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি আদেশের (GO) কপি। ২. মূল কর্মস্থল থেকে অবমুক্তি (Relieve) আদেশ। ৩. প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদানের (Joining Letter) কপি। ৪. সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির সনদপত্র। ৫. যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাস বা ট্রেনের টিকিট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের উচিত এই আর্থিক বিধিমালা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা, যাতে প্রাপ্য অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত না হন। আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে এই বিলগুলো অনলাইনে দাখিল করতে হয়, যা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।



