২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে ৯ম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সুপারিশ করেছে পুনর্গঠিত পে-কমিশন কমিটি। আসন্ন বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
মূল চমক ও বেতন বৃদ্ধি প্রথম ধাপেই সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হবে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন কাঠামো আসতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা: এই সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৬০,০০০ টাকা।
বেতন বৈষম্য (অনুপাত): অষ্টম পে-স্কেলে এটি ছিল ১:৯.৪, যা নতুন কাঠামোতে ১:৮ এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য পরিবর্তন: প্রস্তাবিত নতুন স্কেলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর আর্থিক অবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে এই গ্রেডের একজন কর্মচারী ভাতাসহ যেখানে প্রায় ১৬,৯৫০ টাকা পান, নতুন স্কেল কার্যকর হলে তা বেড়ে প্রায় ৪১,৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চতর গ্রেডগুলোর (১ম থেকে ৯নম) ভাতা বৃদ্ধির হার কিছুটা সীমিত রাখা হতে পারে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও বাজেট বরাদ্দ: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান আর্থিক চাপ বিবেচনা করে একবারে পুরো স্কেল বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য ভাতা (যেমন: যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকি ভাতা) বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে প্রচলিত ১০% ও ১৫% বিশেষ সুবিধাগুলো নতুন বেতন কাঠামোর সাথে সমন্বয় করা হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন এলে এটি দ্রুত কার্যকর করা হবে।


