৮ বছর মেয়াদে পার্সোনাল লোন ২০২৬ : সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা, মাসিক কিস্তি কমলেও ঋণসীমার নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য পার্সোনাল লোন সুবিধায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন ব্যবস্থায় ১২ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ বছর (৯৬ মাস)। ফলে আগের তুলনায় মাসিক কিস্তির চাপ কিছুটা কমবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি কিস্তির চার্ট অনুযায়ী, ১২ শতাংশ সুদে ৮ বছরের মেয়াদে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণের মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণে মাসিক কিস্তি প্রায় ১৭ হাজার ৭৫৫ টাকা এবং ২০ লাখ টাকার ঋণে প্রায় ৩৫ হাজার ৫০৯ টাকা। একইভাবে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকার ঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি প্রায় ৭১ হাজার টাকার বেশি হবে বলে চার্টে উল্লেখ রয়েছে।
পুরোনো ঋণগ্রহীতাদের জন্য কী সুযোগ?
যাদের আগে থেকেই পার্সোনাল লোন চলমান রয়েছে, তারা চাইলে বিদ্যমান ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয় (Settlement) করে নতুন নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নতুন ৮ বছরের মেয়াদ এবং সংশোধিত মাসিক কিস্তির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
৮০ শতাংশ নাকি ১০০ শতাংশ বেতন—কোনটি সঠিক?
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের মধ্যে একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—পার্সোনাল লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে কি এখনো মোট প্রাপ্ত বেতনের ৮০ শতাংশের সীমা বহাল রয়েছে, নাকি ১০০ শতাংশ বেতন বিবেচনায় ঋণ নেওয়া যাবে?
এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় পার্থক্য থাকতে পারে। আগে অনেক ক্ষেত্রে ঋণের কিস্তি নির্ধারণে মোট প্রাপ্ত বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ৮০ শতাংশ) বিবেচনার প্রচলন ছিল। তবে নতুন নীতিমালার আলোচনায় অনেকেই দাবি করছেন, বর্তমানে মোট প্রাপ্ত বেতনের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হিসাব ধরে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে এটি কোনো সর্বজনীন নিয়ম নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ঋণনীতি, চাকরিজীবীর নেট বেতন, বিদ্যমান ঋণদায়, ডেবট-বার্ডেন রেশিও (Debt Burden Ratio) এবং অন্যান্য আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ
ঋণের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলার বা নীতিমালা যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে—
- সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ;
- কিস্তি নির্ধারণের পদ্ধতি;
- বেতন বিবেচনার সীমা (৮০% নাকি ১০০%);
- পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নের (Refinancing) সুযোগ;
- এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সারসংক্ষেপ
নতুন ব্যবস্থায় ১২ শতাংশ সুদে ৮ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোন নেওয়ার সুযোগ ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদের কারণে মাসিক কিস্তির চাপ কমলেও, কে কত টাকা ঋণ পাবেন এবং মোট বেতনের কত শতাংশ পর্যন্ত ঋণযোগ্যতা বিবেচনা করা হবে—সেটি নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্যকর ঋণনীতি ও আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের পাশাপাশি ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।



