নবম পে-স্কেল: আগস্টের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সুপারিশ, প্রজ্ঞাপন নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে, আগামী সপ্তাহে অথবা আগস্ট ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ প্রণয়ন/পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট তারিখে প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উঠবে—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি তাদের কাজকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর আগে ৭ জুলাইয়ের বৈঠকের পর কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের কথা জানানো হয়েছিল।
আগস্টে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগের পরিকল্পনা
জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পর্যালোচনা কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি সভা করে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই সময়সীমা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে—কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে মন্ত্রিসভায় উঠবে এবং এরপর কত দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ছাড়া প্রজ্ঞাপন নয়
নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলেই সরাসরি গেজেট প্রকাশ হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত গেজেট/প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া এগোবে।
অর্থাৎ সম্ভাব্য ধাপটি হতে পারে—
কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন → মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন → মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত/অনুমোদন → প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া → প্রজ্ঞাপন/গেজেট প্রকাশ → বাস্তবায়ন।
১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টি কী হবে?
নবম পে-স্কেল নিয়ে এর আগে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে পর্যালোচনা কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর নির্ভর করছে।
এর ফলে প্রজ্ঞাপন আগস্টে প্রকাশ হলেও, সরকার যদি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তাহলে কার্যকর তারিখ এবং প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ এক হবে না। সে ক্ষেত্রে জুলাই থেকে প্রাপ্য অর্থ পরবর্তী সময়ে বকেয়া/এরিয়ার হিসেবে সমন্বয় করার বিষয়টি আসতে পারে।
তাহলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে কী হতে পারে?
বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণ করলে আগস্টের শেষ সপ্তাহকে একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ জুলাইয়ে কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত মন্ত্রিসভায় দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন আগস্টে কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপনের পথও পরিষ্কার হতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—আগামী সপ্তাহ বা আগস্টের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় প্রতিবেদন উঠবে—এটি বর্তমানে নিশ্চিত সরকারি সময়সূচি নয়; বরং সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সময়কাল।
অর্থ বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশ প্রকাশিত হচ্ছে; এখন পর্যন্ত সেখানে নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে—এমন সরকারি নথি পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা আরও কতদিন?
নবম পে-স্কেলের কার্যক্রম ইতোমধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এখন মূল অপেক্ষা দুটি বিষয়ে—পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত।
মন্ত্রিসভায় সুপারিশ উপস্থাপন হলে পে-স্কেলের বেতন কাঠামো, গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, কার্যকর তারিখ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কথা হলো: নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া থেমে নেই, তবে আগস্টের শেষ সপ্তাহে নিশ্চিতভাবে প্রজ্ঞাপন হবে—এমন সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি। আগে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সুপারিশ উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


