৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে দিনভর তুমুল আলোচনা, শেষ পর্যন্ত গেজেট না হওয়ায় বিতর্কে ওয়ারেছ আলীকে ঘিরে অপপ্রচার

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশকে ঘিরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদনে সন্ধ্যার পর গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে ছবি তুলে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেজেট প্রকাশের অপেক্ষার কথা জানান।

তবে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হয়নি। বরং দিনের শেষভাগে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর্যায়ে গেছে এবং প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পন্ন হয়নি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত সংগঠক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পোস্ট ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। একটি স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও উঠেছে।

গেজেট নিয়ে কেন এত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল

নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, দ্বিতীয় সপ্তাহ এবং পরবর্তী বিভিন্ন তারিখে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

এমনকি গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সেদিন সন্ধ্যার পর গেজেট জারি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ ছিল—কার্যক্রম শেষ না হলে গেজেট কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে গতকালই ইত্তেফাকযুগান্তরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হয়নি।

ফলে গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা থাকা এবং শেষ পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়া—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সর্বশেষ তথ্য কী বলছে

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী ভেটিংয়ের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রামের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য উঠেছে।

অর্থাৎ, ১৭ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ না হলেও প্রক্রিয়াটি থেমে নেই; বরং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের দিকে এগিয়েছে—এটাই বর্তমানে প্রকাশিত সংবাদগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ওয়ারেছ আলীকে ঘিরে বিতর্ক কেন

দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেলের দাবিতে কর্মচারীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ওয়ারেছ আলীর নাম সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি নবম পে-স্কেলের দ্রুত বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ওয়ারেছ আলীর বক্তব্য ও দাবির কথাও এসেছে।

এমনকি ২৯ জানুয়ারির কর্মসূচি নিয়েও প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

অতএব, পে-স্কেল আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নথিভুক্ত রয়েছে।

একটি স্ক্রিনশট কি কাউকে ‘ভুয়া’ প্রমাণ করে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির একটি পোস্ট, স্ক্রিনশট কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের বক্তব্যকে বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে তাঁর পুরো ভূমিকা বা দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সতর্কতার বিষয়।

বিশেষ করে পে-স্কেলের মতো প্রায় সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে একাধিক সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের তথ্য প্রকাশিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। গতকালও তার বাস্তব উদাহরণ দেখা গেছে—কিছু প্রতিবেদনে সন্ধ্যার পর গেজেটের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, রাতের পরবর্তী প্রতিবেদনে গেজেট প্রকাশ না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তাই কোনো ব্যক্তি গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি তথ্য প্রচার করেছেন কি না—সেটি যাচাই করা এক বিষয়; আর সেই একটি তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পুরো আন্দোলন, ভূমিকা কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

‘গেজেট হচ্ছে’—এমন খবর কি শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ছিল?

এখানেও বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে দেখা প্রয়োজন।

গতকাল গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে শুধু ফেসবুক পোস্টই হয়নি; বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও সম্ভাব্য সময় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিডি বুলেটিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।

অন্যদিকে একই দিনে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে গেজেট এখনো প্রকাশ না হওয়ার এবং খসড়া ভেটিংয়ের পর্যায়ে যাওয়ার তথ্য এসেছে।

অর্থাৎ, গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং শেষ পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া—দুটি বিষয় একই সঙ্গে সত্য হতে পারে। সম্ভাব্য সময়ের সংবাদ পরে বাস্তবে না-ও ঘটতে পারে। সেটিকে সরাসরি ইচ্ছাকৃত প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তথ্যের উৎস, সময় এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

পে-স্কেল আন্দোলনের দীর্ঘ পথ

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন একদিনের বিষয় নয়। বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো পরিবর্তন, বৈষম্য নিরসন এবং গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদও বিভিন্ন সময়ে পে-স্কেল, মহার্ঘ ভাতা, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি, আল্টিমেটাম এবং কর্মবিরতির ঘোষণার খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ফলে গেজেটের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কে কতটা ভূমিকা রেখেছে—এ নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়াও নতুন নয়।

এখন মূল বিষয় হওয়া উচিত গেজেটের চূড়ান্ত প্রকাশ

গতকালকের ঘটনাপ্রবাহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে যতই আলোচনা হোক, সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বর্তমান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই গেজেট জারি হবে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপবাদ কিংবা একটি স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে কাউকে ‘ভুয়া’ বা অন্য কোনো অপবাদ দেওয়ার পরিবর্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা করা এবং কোন তথ্য কখন, কোন সূত্রে প্রকাশিত হয়েছিল—তা যাচাই করা।

পে-স্কেলের ২২ লাখের মতো সম্ভাব্য সুবিধাভোগীকে ঘিরে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ ধাপে এসে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের চেয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত প্রকাশ এবং সেখানে বেতন, ভাতা, ইনক্রিমেন্ট ও বাস্তবায়নের বিধান কী থাকছে—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী নবম পে-স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি; তবে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *